শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৮ অপরাহ্ন

লালমনিরহাটে প্রচারনায় বিদ্রোহী প্রার্থীরাই এগিয়ে

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি::

প্রচার প্রচারনায় লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলায় আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরাই এগিয়ে রয়েছেন এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের বড় বড় নেতাকর্মীরাও ছুটছেন বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রচার প্রচারনায়। সব ঠিক থাকলে লালমনিরহাটে বিদ্রোহী প্রার্থীদেরই বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা।

আগামী ১০ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলার ৫টি উপজেলায় নৌকার বিদ্রোহী হিসেবে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জন ৮জন বিদ্রোহী প্রার্থী। শুধুমাত্র কালীগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামীলীগের একমাত্র প্রার্থী সমাজ কল্যান মন্ত্রীর ছোট ভাই মাহাবুবুজ্জামান আহমেদ। এ উপজেলায় জাপা ও ইশা’র প্রার্থীর তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন নৌকার এ প্রার্থী। বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় এ উপজেলা আওয়ামীলীগ নৌকার বিজয় ছিনিয়ে নিতে সম্মিলিত ভাবে কাজ করছেন এবং শেষ পর্যন্ত নৌকার প্রার্থীই এখানে জয়লাভ করবে। জেলার বাকী ৪টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহীদের পিছনেই রয়েছেন জেলা উপজেলা তথা ইউনিয়ন পর্যায়ের আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। ফলে এসব উপজেলায় প্রচারনায় নৌকাকে অতিক্রম করে বিদ্রোহী প্রার্থীরা অনেক দুরে এগিয়ে রয়েছেন বলে সাধারন ভোটাররা দাবি করছেন।

জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ৫টি ধাপের মধ্যে প্রথম ধাপে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলায় আগামী ১০ মার্চ ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রতিদ্বন্দিতা করতে চেয়ারম্যান হিসেবে ৫টি পদের বিপরীতে ১৭জন প্রার্থী ভোটের মাঠে নানান প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। প্রার্থীদের সাথে মাঠে নেমে পড়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। কাক ডাকা ভোর থেকে গভির রাত পর্যন্ত প্রচার প্রচারনা ও গনসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। জেলা আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগি সংগঠনের অধিকাংশ সিনিয়র নেতাকর্মীরা এ নির্বাচনে সদর উপজেলার নৌকার একমাত্র বিদ্রোহী প্রার্থী কামরুজ্জামান সুজনের (আনারস) পক্ষে প্রচারনা চালাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে অনেকটাই একা হয়ে পড়েছেন আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী মোঃ নজরুল হক পাটোয়ারী ভোলা (নৌকা)। জেলার বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদদের আর্শিবাদ পুষ্ট হয়ে ভোটের মাঠ দখলে নিয়েছেন সাবেক এ ছাত্রনেতা আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী কামরুজ্জামান সুজন (আনারস)। জেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে প্রচারনা চালাচ্ছেন। দলের নিস্ক্রিয় কর্মীকে নৌকা প্রতিক দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে দলের প্রায় সকল নেতাকর্মীরা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে আওয়ামীলীগের একটি দায়িত্বশীল সুত্র দাবি করেছে।

আদিতমারী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক রফিকুল আলম এ উপজেলায় নৌকার প্রার্থী হলেও অধিকাংশ নেতাকর্মী একমাত্র বিদ্রোহী ফারুক ইমরুল কায়েসের (মোটরসাইকেল) পক্ষে প্রচারনা চালাচ্ছেন। এ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শওকত আলী দলের সকল সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে গনসংযোগ করছেন। ফলে এ উপজেলায় নৌকার চেয়ে বিদ্রোহীর মাঠ অনেকটাই শক্তিশালী বলে ভোটারদের ধারনা। তবে এ উপজেলার নৌকার প্রার্থী রফিকুল আলম বিজয়ে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, কতিপয় নেতাকর্মী বিদ্রোহীর পক্ষে কাজ করায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। যা নিরসনের জন্য দলের হাই কমান্ডকে অবগত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে খুব দ্রুত সমাধান হবেও জানান তিনি।

চেয়ারম্যান পদে সব থেকে বেশী প্রার্থী হাতীবান্ধা উপজেলায়। সেখানে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী ৪জন হলেও দুই বিদ্রোহীর মাঝে মুল লড়াই হবে বলে সাধারন ভোটারদের ধারনা। এরা হলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মশিউর রহমান মামুন(ঘোড়া) ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেনের ভাই আলমগীর হোসেন রিন্টু (আনারস)। তবে এ উপজেলা আওয়ামীলীগের বড় পদধারী নেতারা নৌকার প্রার্থী লিয়াকত হোসেন বাচ্চুর পক্ষে গনসংযোগ করে চলেছেন। পাটগ্রাম উপজেলায় আওয়ামীলীগ প্রার্থী রুহুল আমিন বাবুলের (নৌকা) চেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী ওয়াজেদুল ইসলাম শাহিন (আনারস)। যিনি নানান নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে শেষ পর্যন্ত প্রার্থীতা ফিরে নিয়েছেন।

লালমনিরহাট জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি সিরাজুল হক বলেন, দলীয় প্রতিকের সাথে থাকতে বলা হলেও স্থানীয় নির্বাচন হিসেবে আত্মীয়তা বা দলীয় সহযোদ্ধা সুত্রেও অনেকেই বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। তবে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের পক্ষে তাদের কোন নেতাকর্মী নেই বলেও দাবি করেন তিনি। লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৯ লাখ ১৭হাজার ১১৯ জন। যার মধ্যে সদরে ২লাখ ৫২হাজার ৫০৭জন, আদিতমারীতে এক লাখ ৬৬হাজার ৩৬১জন, কালীগঞ্জে এক লাখ ৮০ হাজার ৯৩ জন, হাতীবান্ধায় এক লাখ ৬৭ হাজার ৯৭৩জন ও পাটগ্রাম উপজেলায় এক লাখ ৫০ হাজার ১৮৫জন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com