শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
আমরা কেউ সংখ্যালঘু নই সবাই মানুষ সনাতনীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে -আশফাক বায়েজিদে ওয়াশিং কারখানার দূষণে নাজেহাল জনপদ, প্রশ্নের মুখে পরিবেশ অধিদপ্তর সংসদে উঠছে না গণভোটসহ ১৬ অধ্যাদেশ: বাতিল হচ্ছে ১২ এপ্রিল শহীদ ওসমান হাদি হত্যা: সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন ১৯ এপ্রিল মধ্যপ্রাচ্যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি: সামরিক শক্তিতে এগিয়েও কেন ইরানের কাছে ‘অসহায়’ ট্রাম্প? অফিস ৯-৪টা, সন্ধ্যা ৬টায় মার্কেট বন্ধ: ব্যয় সংকোচনে সরকারের গুচ্ছ সিদ্ধান্ত জালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস: তিন দেশ থেকে তেল আনছে সরকার দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অবসান: রাণীশংকৈলে আহসান হাবিবকে বর্ণাঢ্য বিদায়ী সংবর্ধনা

লালমনিরহাটে জেঁকে বসতে শুরু করেছে শীত

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি॥

তীব্র শীত ও শৈত্য প্রবাহে উত্তরাঞ্চলের গ্রাম-গঞ্জে প্রতি বছর আগুন পোহাতে গিয়ে বাড়ছে অগ্নিদগ্ধদের সংখ্যা। এ বছরও শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে অগ্নিদগ্ধ রোগীর সংখ্যাও আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে লালমনিরহাট ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স। উত্তরের জেলা লালমনিরহাটে ইতিমধ্যেই মৌসুমী বায়ু বিদায় নিয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে দক্ষিন পশ্চিম মৌসুমী বায়ুও বিদায় নিবে। এদিকে প্রতিবছর অগ্নিদগ্ধ রোগীর সংখ্যা বাড়লেও লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেই কোন বার্ন ইউনিট। এমন কি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে নেই রোগীর সেবার জন্য পর্যাপ্ত জনবল ও ঔষধ।

আবহাওয়া অফিস সুত্রের মতে, গত বছর শীতে উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা ৪৫ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করে নেমে এসেছিল ২ ডিগ্রী সেলসিয়াসে। এ বছরেও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে আসবে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়াবিদরা। মধ্য হেমন্তেই দেশের উত্তরাঞ্চলে জেঁকে বসেছে শীত। রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় দিনের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। রাতে বাড়ছে শীতের তীব্রতা সেই সাথে ঘন কুয়াশা।

রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তর জানান, প্রতি বছর বৈশ্বিক উষ্ণায়নসহ বিভিন্ন কারণে আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটছে। তাই কখনো বেশি গরম আবার কখনো বেশি শীত পড়ছে। গত বছর শীতের তীব্রতা অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। এ বছরও শীতকাল আসার আগেই শীতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ বছরও শীতের তীব্রতা অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশী বাড়তে পারে।

এদিকে লালমনিরহাট ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স সুত্রে জানা গেছে, আগুন পোহাতে গিয়ে এ অঞ্চলে গত বছর শীতে অর্ধশত ব্যাক্তি অগ্নিদগ্ধ হয়ে এখনো মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন, পুড়ে গেছে হাজার হাজার বসতবাড়ি। এ বছরও শীত বাড়ার সাথে সাথে অগ্নিদগ্ধের ঘটনা আরো বাড়তে পারে।

লালমনিরহাটে বসুন্ধরা এলাকার বাসিন্দা সোহরাব হোসেন জানান, গত ক’দিন ধরে বেশ কুয়াশা পড়ছে। কয়েকদিন আগের মতো রাতে আর ফ্যান ছেড়ে থাকা যায় না। তারপর গায়ে গরম কাপড় জড়াতে হচ্ছে। গত কয়েকদিন থেকে দিনে গরম আর রাতে শীত অনুভব হচ্ছে। ভোরে কুয়াশা পড়ছে। এখনেই যেভাবে শীত জেঁকে বসেছে তাতেকরে ঘন কুয়াশা এবং তীব্র শীত আসতে আর বেশী দেরি নেই। এছাড়াও এ সময় আকাশ থাকবে হালকা মেঘলা আবার কড়া রোদ। আর সেই আকাশ থেকে কখনও জোরে আবার কখনও ঝড়বে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। আর এই আকাশ মেঘ এবং বৃষ্টি লুকোচুরিতে আগাম শীতকে আরো ত্বরান্বীত করেছে। ইতিমধ্যে শীতের সবজি চাষ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষক। লালমনিরহাটে শীত কালীন সবজি জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানি হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লালমনিরহাট ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত উপ-সহকারী পরিচালক মোঃ সাহেদুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর শীত রেকর্ড ভঙ্গ করেই চলেেছ। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাট জেলায় শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। সচেতনতার অভাবে অধিকাংশ সময় আগুন পোহাতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। শীতকালে নারীরা ওড়না, চাদরসহ শরীরে নানা ধরনের ভারি পোশাক পরে আগুন পোহাতে যান। একটু অসতর্ক হলেই কাপড়ে আগুন ধরে যায়, ঘটে যায় প্রানহানি অনেক ঘটনা।

তিনি আরো বলেন, এ বছরও শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে অগ্নিদগ্ধের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে লালমনিরহাট ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স ইতিমধ্যে জনসচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি হতে নিয়েছে। আমরা স্কুল-কলেজ, হাট-বাজারে গিয়ে পথসভা করে জনগণকে সচেতন করছি। শীতকালে তারা শীতের পোশাক পরে যেন ঘরে অবস্থান করে, আগুন যাতে না পোহায় সেই বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। আর আগুন পোহাতে গেলেও যেন আগুন সম্পর্কে সচেতন থাকে।

এদিকে প্রতি বছর অগ্নিদগ্ধ রোগীদের সংখ্যা বাড়লেও দির্ঘদিন থেকে লালমনিরহাট হাসপাতালে বার্ন ইউনিটের কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এরপরও যদিও রংপুর মেডিকেল কলেজের একটি বার্ণ ইউনিট আছে কিন্তু সেখানে বাড়েনি চিকিৎসা সেবার মান। গেল বছর রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার অগ্নিদগ্ধ রোগীদের অধিকাংশই মারা গেছে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে। এর কারণ হিসেবে চিকিৎসকরা বার্ণ ইউনিটে পর্যাপ্ত জনবলের অভাব আর প্রয়োজনীয় ঔষধের সংকটকে দুষছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লালমনিরহাট সিভিল সার্জন মোঃ কাশেম আলী বলেন, প্রতি বছর রংপুরাঞ্চলে অগ্নিদগ্ধ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। লালমনিরহাট জেলাও এর বাইরে নয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এই হাসপাতালে কোন বার্ন ইউনিট নেই। যদিও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি বার্ন ইউনিট আছে আর যে হারে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, সেই হারে রমেকের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এর কারণ সেখানে পর্যাপ্ত লোকবলের অভাব। অন্যদিকে অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার জন্য যেসব ঔষধ দরকার বার্ণ ইউনিটে যেসব ঔষদের পর্যাপ্ততা নেই।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে আমাদের এলাকায় যে আবহাওয়া বিরাজ করছে তা থেকে সবাইকেই একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, নানা হলে ঠান্ডা জ্বরসহ নানাঠান্ডা জনীত রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। বিশেস করে শিশু বয়স্কদের একটু বেশী সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com