সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ন

লালমনিরহাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে জরিমানা

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃঃ
লালমনিরহাটে অবৈধ ভাবে শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনে অভিযোগে শ্রী রাজকুমার রায় (৪০) নামের একজনের ৫০হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৭দিনের কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জয়শ্রী রাণী রায় এ দন্ডাদেশ প্রদান করেন।
বৃহষ্পতিবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের সিঙ্গাদার গ্রামে অবৈধ ভাবে শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের সময় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়শ্রী রাণী রায় তাকে আটক করেন। এ সময় বালু উত্তোলনকারী অন্যান্য শ্রমিকেরা পালিয়ে যায়।
আটককৃত শ্রী রাজকুমার রায় মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের সিঙ্গাদার গ্রামের মৃত প্রফুল্ল চন্দ্র বর্ম্মনের পুত্র।
মামলার বিবরনে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে শ্রী রাজকুমার রায়ের বাড়ি সংলগ্ন পুকুরে অবৈধ ভাবে শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সঙ্গীয় র্ফ্সোসহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অভিযান চালায়। এ সময় বালু উত্তোলনকারী অন্যান্য শ্রমিকেরা পালিয়ে গেলেও রাজকুমার রায়কে আটক করেন। এ সময় বালু উত্তোলনের জন্য ব্যবহৃত শ্যালোমেশিনটি গুড়িয়েদেয়া হয়। পরে রাজকুমার রায়কে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উক্ত পুকুরের মালিক তার ৫০হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৭দিনের কারাদন্ডাদেশ প্রদান করেন। এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় আরও ৪ জন বালু উত্তোলনকারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন স্থানীয় মহেন্দ্রনগর ভুমি অফিস।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়শ্রী রানী জানান, বালু উত্তোলনের স্থানে অভিযান চাীলয়ে মেশিন জব্দ ও পুকুরের মালিককে আটক করা হয়েছে। আটককৃতর ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জেল জরিমানা করা হয়েছে।
অপরদিকে তিস্তা ও ধরলা নদীর অববাহিকায় বালু খেকো চক্র প্রশাসনের চোখ ফাকি দিয়ে মেশিন বসিয়ে উত্তোলন করছে তিস্তা ও ধরলা নদীসহ বিভিন্ন পুকুর ডোবা নালা ও ফসলি জমির বালু। কখনো ট্রাক ভরে নদী তীরের বালু তুলে নিচ্ছে চক্রটি। শুধু তাই নয় পুকুর ডোবা ও ফসলি জমি থেকে বালু উত্তোলনের ফলে আবাদি জমিগুলো পানির ধারন ক্ষমতা হারিয়ে ফসলহানীর আশংকা দেখা দিয়েছে। ভুমিকম্প বা ভুমিধ্বসের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়ছে এ জনপদে। বালু দস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না রাস্তা ঘাট, রেলপথ, ব্রীজ সেতু ও স্থাপনা।
সদর উপজেলার কুলাঘাট ওয়াবদা বাঁধের নিচে ধরলা নদীর তীরে ট্রাকে ভরে বালু পাচার কালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়শ্রী রানী হানা দিলে মুল মালিকরা ট্রাক ফেলে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্দেশে কুলাঘাট ইউনিয়ন ভুমি অফিসের উপ সহকারী ভুমি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে মঙ্গলবার (২০ মার্চ) ৫ বালু দস্যুর বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও মোগলহাট ইউনিনের কর্ণপুর এলাকায় নৌকায় মেশিন বসিয়ে ধরলা নদী থেকে বালু উত্তোলন কালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হানা দিয়ে বালু দস্যুদের পাননি। এ ঘটনায় সদর থানায় বৃহস্পতিবার (২২ মার্চ) দুপুরে ৪ বালু দস্যুর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন মোগলহাট ইউনিয়নের উপ সহকারী ভুমি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।
স্থানীয়দের দাবি, উপজেলা প্রশাসনকে তথ্য দিলে তারা নিজেরা আবার কখনো ভুমি অফিসের কর্মকর্তাদের দিয়ে অভিযান করে সাময়িক বন্ধ থাকে। কিন্তু অদৃশ্য কারনে পুনরায় চালু হচ্ছে। শুধু শুধু অভিযান না করে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে মেশিন জব্দসহ বালু দস্যুদের জেল জরিমানা করলে এ থেকে পরিত্রান পাওয়া সম্ভব। বালু দস্যুদের ধারনা প্রশাসন এলে সাময়িক বন্ধ করলেই হয়ে যায়। ফলে এটাকে তারা অপরাধ বলে মনেই করছেন না। তাই নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার দাবি জানান স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহফুজ আলম জানান, বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়শ্রী রানী এ ব্যাপারে জানান, বালু উত্তোলনের স্থানে মেশিন বা বালু মালিকদের পাওয়া যায় না। যারা থাকেন তারা সাধারণ শ্রমিক। প্রায় সময় সবাই মেশিন ফেলে পালিয়ে যায় এবং কেউ এদের নাম ঠিকানা দিতে রাজি হন না। তাই অনেক সময় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয় না। তিনি লালমনিরহাট সদর উপজেলাকে বালু উত্তোলন মুক্ত করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com