সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৬ অপরাহ্ন

রাজবাড়ীতে শিক্ষক সমন্বয়হীনতায় চলছে প্রাথমিক শিক্ষা

শাহজাহান হেলাল,ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সমন্বয়হীনতার কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বালিয়াকান্দি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা (পুরাতন) ৬০টি, নতুন জাতীয়করণ করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৮টি, ১৫০০ বিদ্যালয় প্রকল্পের ১টি বিদ্যালয় ও বেসরকারি ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিদ্যালয়গুলোতেই শিক্ষক সমন্বয়হীনতা রয়েছে। কোথাও শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষক নেই, আবার কোথাও শিক্ষক অনুপাতে শিক্ষার্থী নেই।

৪০ জন শিক্ষার্থীর অনুকুলে ১ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও সেটি কাগজে কলমেই রয়ে গেছে। যেখানে ৮ জন শিক্ষক প্রয়োজন সেখানে রয়েছে ৪ জন, আবার যেখানে ৪ জন শিক্ষক প্রয়োজন সেখানে রয়েছে ৮ জন।

মাসিক রির্টানে কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষক সংখ্যা দেখা যায়, বালিয়াকান্দি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪৫৪ জন, বিপরীতে কর্মরত শিক্ষক ১৫ জন, রামদিয়া বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪১৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক ৭ জন, রামদিয়া বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৫০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৬ জন শিক্ষক, বারুগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৭০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৯ জন শিক্ষক, সোনাইকুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৫ জন শিক্ষক, পাটকিয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫১ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৬ জন শিক্ষক, খালিয়া মধুপুর ৩৩১ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৬ জন শিক্ষক, ছোট ঘিকমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১১৮ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৬ জন শিক্ষক, পোটরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৭৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৭ জন শিক্ষক, পারুলিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯২ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৫ জন শিক্ষক, তুলশীবরাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৬ জন শিক্ষক, স্বাবলম্বী ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৬৪ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র ৭ জন।
এছাড়াও প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়েই রয়েছে শিক্ষক সংকট।
এমন হ-য-ব-র-ল অবস্থায় শিক্ষা কার্যক্রম চলছে শিক্ষক সংকটে থাকা বালিয়াকান্দির উপজেলার অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
আর এ সমন্বয়হীনতার কারণে বছরের শুরু থেকে যে রুটিন করা হয় সেটির কোনো বাস্তবায়নই করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্য ও নারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গাফ্ফার জানান, ৪০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ বিদ্যালয়ে সেটি নেই। বছরের শুরুতেই শ্রেণি রুটিন করা হয়। শিক্ষক সংকটের কারণে রুটিন বাস্তবায়নের কোনো সুযোগই হয় না। তিনি জানান, এছাড়া অফিসের বিভিন্ন তথ্য ফরম পূরণ করতেই বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে ক্লাসের বাইরে থাকতে হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঠদান থেকে বঞ্চিত হয়।
স্বাবলম্বী ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: শহিদুল ইসলাম জানান, তার বিদ্যালয়ে ৪৬৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষক থাকার কথা ১০ জন। আছে ৭ জন। তিনি জানান, উপজেলার কিছু কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও সেখান থেকে শিক্ষক বদলী কিংবা ডেপুটেশন দেওয়া হচ্ছে না- যা সমন্বয়হীনতা।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: সিরাজুল ইসলাম বিশ্বাস শিক্ষক সমন্বয়হীনতার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, উপজেলার অধিকাংশ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে ক্লাস রুটিন অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার গুণগত মান আশানুরুপ হচ্ছে না। শিক্ষক ডেপুটেশনের মাধ্যমে শিক্ষক সমন্বয় সম্পর্কে তিনি জানান, শিক্ষক ডেপুটেশনের ক্ষমতা শিক্ষা কমিটি কিংবা তার নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com