বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ন
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি::
ময়মনসিংহের নান্দাইলের ওষুধ ব্যবসায়ী মাজহারুল ইসলাম পল্টন হত্যা মামলায় ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলায় অপর সাত জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় বিচারক তাদের বেখসুর খালাস দেন।
মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবু আব্দুল্লাহ ভূইয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- একলাছ উদ্দিন ওরফে জুয়েল, আবুল কাশেম ওরফে বাচ্চু মেম্বার, কবির মিয়া, আবুল কাশেম, বাদল মিয়া, ফারুক মিয়া, রুমা আক্তার, আবুল কালাম আজাদ ওরফে পিনু ডাক্তার, চন্দন, শুক্কুর আলী ওরফে আশ্রাফ আলী। এদের মধ্যে ফারুক মিয়া ও রুমা আক্তার পলাতক।
খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- আফতাব উদ্দিন ওরফে আক্রাম আলী, বদরুল আলম ওরফে বদরুল, ইসমাইল হোসেন, কাজল মিয়া, রফিক, আবু সিদ্দিক ও দুলাল। এদের মধ্যে রফিক পলাতক রয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আবু আব্দুল্লাহ ভূঞা জানান, আসামিদের মধ্যে রুমা আক্তার ও ফারুক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এর আগে গত ৫ ডিসেম্বর আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য আজ (২৪ ডিসেম্বর) দিন ধার্য করেন।
মামলার অভিযোগ: ২০০৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত থেকে ১ মার্চ সকাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পল্টনকে তার ওষুধের দোকানে মাথা ও কপালে আঘাত করে খুন করা হয়। দোকানের ভেতরে বাঁশের খুটির সঙ্গে গামছা দিয়ে মরদেহ বেঁধে রেখে দোকানে তালা দিয়ে চলে যায় আসামিরা। এ ঘটনায় নিহত পল্টনের বোন বিউটি আক্তার ২০০৭ সালের ১ মার্চ নান্দাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০০৮ সালের ৩১ জানুয়ারি ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নান্দাইল থানার পুলিশ পরিদর্শক জসিম উদ্দিন।
অভিযোগপত্র দাখিল হওয়ার পর জব্বর মোহরী নামে এক আসামি মারা যান। আদালত জব্বর মোহরীকে অব্যাহতি দিয়ে ১৭ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ৩০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।