শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
আমরা কেউ সংখ্যালঘু নই সবাই মানুষ সনাতনীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে -আশফাক বায়েজিদে ওয়াশিং কারখানার দূষণে নাজেহাল জনপদ, প্রশ্নের মুখে পরিবেশ অধিদপ্তর সংসদে উঠছে না গণভোটসহ ১৬ অধ্যাদেশ: বাতিল হচ্ছে ১২ এপ্রিল শহীদ ওসমান হাদি হত্যা: সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন ১৯ এপ্রিল মধ্যপ্রাচ্যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি: সামরিক শক্তিতে এগিয়েও কেন ইরানের কাছে ‘অসহায়’ ট্রাম্প? অফিস ৯-৪টা, সন্ধ্যা ৬টায় মার্কেট বন্ধ: ব্যয় সংকোচনে সরকারের গুচ্ছ সিদ্ধান্ত জালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস: তিন দেশ থেকে তেল আনছে সরকার দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অবসান: রাণীশংকৈলে আহসান হাবিবকে বর্ণাঢ্য বিদায়ী সংবর্ধনা

মোতাহার হোসেনের সম্পদ বেড়েছে ১৬ গুনের বেশী

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি॥

লালমনিরহাট-১ আসনের সাংসদ ও সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেনের ১০ বছরে সম্পদ বেড়েছে ১৬ দশমিক ২৬ গুণ যা শত ভাগেরও এবং একই সময়ে আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬৪ গুণ। ২০০৮ সালের নবম এবং ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য লালমনিরহাট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া মোতাহার হোসেনের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া হলফনামায় ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ৬৩০ টাকার সম্পদের (অস্থাবর ও স্থাবর) হিসাব দিয়েছিলেন। ১০ বছর পর ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি ২ কোটি ২৭ লাখ ২৬ হাজার ৪৫৯ টাকার সম্পদের (অস্থাবর ও স্থাবর) হিসাব দিয়েছেন। এ হিসাবে গত ১০ বছরে তাঁর সম্পদ বেড়েছে ১৬ দশমিক ২৬ গুণ। ২০০৮ সালের হলফনামা অনুযায়ী মোতাহার হোসেনের বার্ষিক আয় ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ২০১৮ সালে হলফনামা অনুযায়ী তাঁর বার্ষিক আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৬০৪ টাকা। অর্থাৎ ২০০৮ সালের চেয়ে ১৩ দশমিক ৬৪ গুণ আয় বেড়েছে ২০১৮ সালে।

২০০৮ সালের হলফনামায় মোতাহার হোসেন নগদ ৮৫ হাজার টাকা, বিভিন্ন ব্যাংকে ৩ হাজার ৬৩০ টাকা, ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা মুল্যের গাড়ি, ৪০ হাজার টাকা মুল্যের স্বর্ণালংকার, ৪০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, ১৫ হাজার টাকা মুল্যের আসবাবসহ ৮ লাখ ৬৮ হাজার ৬৩০ টাকার অস্থাবর সম্পদ দেখান। একই হলফনামায় তিনি নিজ নামে ৭০ হাজার টাকা মুল্যের ৬ দশমিক ৩১ একর কৃষি জমি, ৮২ হাজার টাকা মুল্যের শুন্য দশমিক ৫৪ একর অকৃষি জমি, ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি আধাপাকা ঘর এবং ৭০ হাজার টাকা মুল্যের একটি আধাপাকা বাসাসহ মোট ৩ লাখ ৭২ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ দেখান। এ ছাড়া মোতাহার হোসেন তাঁর স্ত্রীর নামে ৭২ হাজার টাকা মুল্যের ৭ দশমিক ১২ একর কৃষি জমি এবং ৮৫ হাজার টাকা মুল্যের শুন্য দশমিক ৬২ একর অকৃষিজমি দেখান।

২০১৮ সালের হলফনামায় অস্থাবর সম্পদ হিসেবে মোতাহার হোসেন নগদ ৩২ লাখ ৬ হাজার ৬৫৯ টাকা, গাড়ির মুল্য হিসেবে ৬৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ৪০ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার, ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩০০ টাকার ইলেকট্রনিকস সামগ্রী এবং ৪৫ হাজার টাকার আসবাব দেখিয়েছেন। হলফনামা অনুযায়ী মোতাহার হোসেনের বর্তমান অস্থাবর সম্পদের আর্থিক মুল্য নগদ টাকাসহ ১ কোটি ৭০ হাজার ৯৫৯ টাকা। একই হলফনামায় তিনি স্থাবর সম্পদ হিসেবে ৭০ হাজার টাকা মুল্যের ৬ দশমিক ২১ একর কৃষি জমি, ১ লাখ ৮২ হাজার টাকা মুল্যের শুন্য দশমিক ৫৪ একর অকৃষি জমি, ১ কোটি ৪ লাখ ৩ হাজার ৫০০ টাকা মুল্যের বিভিন্ন অবকাঠামো/স্থাপনা (দালান, আবাসিক/বাণিজ্যিক) এবং ২০ লাখ টাকা মুল্যের রাজউক প্লটের কথা উল্লেখ করেছেন। সব মিলিয়ে তাঁর বর্তমান স্থাবর সম্পদের মোট মুল্য ১ কোটি ২৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় মোতাহার হোসেন ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৬০৪ টাকা বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৬০৪ টাকা, ব্যবসা থেকে ১০ লাখ টাকা এবং চাকরি থেকে ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা আয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। ২০০৮ সালের হলফনামায় দেখানো ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা বার্ষিক আয়ের মধ্যে ছিল কৃষি খাত থেকে ২৪ হাজার টাকা এবং ব্যবসা থেকে ১ লাখ ৬ হাজার টাকা।

লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনের সাংসদ ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন বলেন, ২০০৮ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে এসে সম্পদ ও আয় বেড়েছে, এর বিস্তারিত বিবরণ হলফনামায় রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com