বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
৪ মার্চ, ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে। সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের ১৮ জন সেনার প্রাণহানির ঘটনায় এই উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, যা বৈশ্বিক তেলের বাজারে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের পূর্বাভাস দিচ্ছে।
অবরুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ:
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি সংঘাতের জেরে এই রুটটি এখন অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে হু হু করে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংকটে চীন, শোধনাগার বন্ধের ঘোষণা:
জ্বালানি সংকটের আঁচ লেগেছে বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ চীনে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় অপরিশোধিত তেলের জোগান কমে যাওয়ায় দেশটির বৃহৎ শোধনাগারগুলো কার্যক্রম কমিয়ে আনতে বাধ্য হচ্ছে। সৌদি আরামকোর সরবরাহ সচল রাখা চীনের অন্যতম বৃহৎ শোধনাগার ‘ঝেজিয়াং পেট্রোকেমিক্যাল করপোরেশন’ (জেডপিসি) তাদের একটি বিশাল ইউনিট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দৈনিক ৮ লাখ ব্যারেল তেল শোধনের ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্ল্যান্টটি আগামী মার্চ মাসে মাসব্যাপী রক্ষণাবেক্ষণের (ওভারহোলিং) কাজ শুরু করবে। এর ফলে তাদের উৎপাদন ২০ শতাংশ হ্রাস পাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তেলের জোগান সংকটের কারণেই নির্ধারিত সময়ের আগেই এই রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে।
ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির আশঙ্কা:
চীন তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় অর্ধেকই আমদানি করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এই সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়েছে। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৮ জন ইরানি সেনার নিহতের ঘটনা তেহরানকে আরও কঠোর সামরিক অবস্থানের দিকে ঠেলে দিতে পারে। যদি দ্রুত এই যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান না ঘটে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে এবং বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি দেখা দেবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা ও রয়টার্স।