সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন
শাহজাহান হেলাল, মধুখালী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি॥ ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কোরকদী ইউনিয়নের ঘোষকান্দি, বাসপুর খোদাবাসপুর রামদিয়া গ্রামের মাঠে অজ্ঞাত রোগে মরিচ গাছে মড়ক লেগে শতাধিক একর জমির মরিচ গাছ মরে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে ওই এলাকার চাষীদের কোটি টাকার ক্ষতি হবে বলে ক্ষতি গ্রস্থচাষীদের দাবী।
শনিবার সরেজমিনে মাঠে গেলে কোরকদী ইউনিয়নের ঘোষকান্দি গ্রামের মরিচ চাষী ইয়াসিন সেখ জানান, তিনি সহ তাদের পরিবারে প্রায় ৫০ একর জমিতে মরিচ আবাদ করা হয়। গত ১ মাস আগে থেকেই তাদের মাঠের মরিচ গাছে মড়ক লাগে। ওই সময় তার একজন চাচার মাধ্যমে কৃষি অফিসের দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাকে মাঠে আসার জন্য বলা হয়। কিন্ত তিনি এখন পর্যন্ত মাঠে আসেননি এবং তাদের কোন পরামর্শ দেননি। তিনি জানান, মাঠকে মাঠ মরিচ গাছ মরে যাচ্ছে। আগামী কার্তিক মাস পর্যন্ত মরিচের উৎপাদন হয়ে থাকে কিন্ত দুই মাস আগেই গাছ মরে শুকিযে যাচ্ছে ফলে এলাকার চাষীদের কোটি টাকার ক্ষতি হবে বলে তিনি দাবী করেন।
ওই এলাকার মরিচ চাষী জিন্না সেখ, গোলাম মোস্তফা, আতিয়ার রহমান, বেলায়েত মীরসহ অনেকের একই দাবী। বাসপুর গ্রামের ইউসুফ মিয়া জানান, আমাদের মাঠের সব মরিচ ক্ষেতে মড়ক লেগে মরিচ গাছ মরে যাচ্ছে। এতে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হবে। খোদা বাসপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ বলেন, আমার এক একর জমির মরিচ ক্ষেতে মড়ক লেগে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. খবির মন্ডল বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমাকে কোন খবর দেওয়া হয়নি আমাকে খবর দিলে তাৎক্ষনিক ওই মাঠে আমি উপস্থিত হয়ে চাষীদের পরামর্শ দিয়ে থাকি।
মধুখালী মরিচ বাজারের আরৎদার মির্জা আহসানুজ্জামান আজাউল জানান, বাজারে আগের মত আর মরিচ আসছে না। মরিচ গাছ মরে যাওয়ার কারনে এ রকম হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাব মন্ডল জানান, আমি একমাস এ উপজেলাতে যোগদান করেছি। কোথাও অজ্ঞাত রোগে মরিচ নষ্ট হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। এ ধরণের কোন অভিযোগ সত্য হলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ বছর এখানে মরিচের ফলন আগের কয়েক বছরের তুলনায় ভাল, দামও ভাল থাকায় কৃষক ভাল অবস্থানে আছেন। এ বছর মধুখালী উপজেলায় ২ হাজার ৬‘শ ৮০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে।
শনিবার মধুখালী মরিচ বাজারে গিয়ে দেখা যায় প্রতি মন (৪০ কেজি) মরিচ ৩ হাজার ৫ শত টাক দরে বিক্রি হচ্ছে।