সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ন
শাহজাহান হেলাল, মধুখালী(ফরিদপুর)প্রতিনিধি:: ফরিদপুরের মধুখালীতে প্রায় শতাধিক গ্রাহকের বড় ঋন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়ে এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছে “পল্লী উন্নয়ন সংস্থা (পি.ইউ.এস)” নামে একটি ভুয়া এনজিও। যার হেড অফিস হিসেবে বি.বি এভিনিউ খদ্দর সপিং কমপ্লেক্স, (৬ষ্ট তলা), ৫৮ নং রুম, ঢাকা ১০০, রেজি: নং ম/বি/অ-ঢাকা-১৫২/৯৮ ব্যাবহার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার মধুখালী পৌরসভার বৈশাখী মেলার মাঠ এলাকায় পশ্চিশ গাড়াখোলার গ্রামে মিত্র ভবনে অবস্থিত ‘পল্লী উন্নয়ন সংস্থা (পি.ইউ.এস)’ অফিসের সামনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার রাযপুর ইউনিয়নের ব্যসদী, গাজনা ইউনিয়নের ধোপাগাতি, নওপাড়া ইউনিয়নের দড়িবাজার আড়কান্দি, লক্ষনদিয়া, চোপেরঘাট ও আমডাঙ্গা গ্রাম থেকে প্রতারিত প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষ গ্রাহকরা সঞ্চয় বই উচ্চ করে টাকার দাবীতে বিক্ষোভ করছেন।
প্রতারিত সমিতির সদস্য জহুরা বেগম, শাহজাহান শেখ, জিয়াউর রহমান, দেলোয়ারা, ফাতেমা, মেরী বেগমসহ অনেকেই জানান এক সপ্তাহ আগে থেকে এই এনজিও’র মহিলা কর্মীরা আমাদের বাড়ীতে গিযে সমিতি গঠন করে সঞ্চয় নিয়ে আসে ৪ হাজার, ৫ হাজার, ১০ হাজার ও ২০ হাজার টাকা এবং আমাদেরকে গত ২৮ মে ঋন নেওয়ার জন্য অফিসে আসতে বলেন। আমরা অফিসে এসে তালাবদ্ধ দেখে মহিলা কর্মীর কাছে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি তার মোবাইল বন্ধ পাই। পরে আমরা ভবন মালিকের সাথে কথা বলা চেষ্টা করি এবং পরে জানতে পারি এরা এখান তেকে পালিয়ে গেছে। এ সময় অনেক সদস্যকে কাঁদতে দেখা যায়।
এ ব্যাপারে ভবন মালিক মধুখালী মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রনোজয় মিত্র বলেন, গত ২১ মে পল্লী উন্নয়ন সংস্থা (পি.ইউ.এস) কর্মকর্তা শাহারা খাতুন নিজেকে এই এনজিও’র শাখা ব্যবস্থাপক পরিচয় দিয়ে মালিক দেশের বাইরে আছেন বলে ২৮ মে চুক্তিপত্র হবে বলে আমার বাসায় উঠে। কিন্তু মঙ্গলবার আমার বাসার সামনে লোকজন জড়ো হয়েছে জানতে পেরে আমি থানায় অভিযোগ দায়ের করি। তবে ম্যানেজার পরিচয় দানকারী শাহারা খাতুন এর মোবাইলে একাধিক বার চেষ্টা করেও তার মোবাইল নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
মধুখালী থানার এস আই মো. মাহাবুল করিম বলেন, ভবন মালিক একটি জিডি করার প্রেক্ষিতে আমরা তদন্তের জন্য ওখানে গিয়েছিলাম। এ সংবাদটি লেখা পযর্ন্ত প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহক অফিসের সামনে অবস্থান করছিলেন।