বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন
আবুল বাশার শেখ, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি॥ হাফেজ হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করার আগেই ১৮ পারা কোরআন মুখস্ত করা ছেলের লাশ দেখতে হলো মায়ের। ছেলের উপর বর্বর নির্যাতনের কথা বলে বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন মা হাসনাহেনা। ২ ছেলে ১ মেয়ের মধ্যে সবার বড় ছেলে তাওহিদুল ইসলামকে অমানবিক নির্যাতন করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয় মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ আমিনুল ইসলাম।
আজ সোমবার সকালে মায়ের কান্নায় ভারি হয়ে যাচ্ছিল থানা প্রাঙ্গন। ময়মনসিংহের ভালুকায় মাদ্রাসা শিক্ষকের বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়ে তাওহিদুল ইসলাম (১০) নামে এক শিশু ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।
জানা যায়, ভালুকার মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নের পাঁচগাও গ্রামের কয়েশ মিয়ার পুত্র জামিরদিয়া ‘মাদরাসায়ে ওমর (রাঃ) হাফিজিয়া এন্ড ইসলামী কিন্ডার গার্টেন’ এর হেফজ শ্রেণীর ছাত্র তাওহিদুল ইসলাম (১০) গত ৪ মার্চ রোববার রাতে ঢাকার বক্ষব্যাধি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে। তাওহিদের পিতা জানান, তার ছেলেকে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চরনিখলা গ্রামের চান মিয়ার ছেলে হাফেজ আমিনুল ইসলাম পড়া মুখস্থ না করার কারণে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে বুকের পাজরের হাড় ও একটি পা ভেঙ্গে ফেলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। বিষয়টি গোপন রেখে খেলা করতে গিয়ে আঘাত পেয়েছে বলে তাদের কাছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কয়েকদিন আগে তাওহিদকে রেখে চলে যান। পরে তাওহিদ তার বাবা মা ও দাদীর কাছে ঘটনা খুলে বলেন। এরপর তার অবস্থা খারাপ হতে থাকলে তারা তাওহিদকে প্রথমে ভালুকা পরে চুরখাই কমিউনিটি ব্যাজড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ৪ মার্চ (রোববার) অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকায় রেফাড করা হয়। রোববার মধ্যরাতে তাওহিদ ঢাকার বক্ষব্যাধি হাসপাতালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে। এ ঘটনায় ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক এনামুল হককে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
অপরদিকে, হাফেজ আমিনুল ইসলাম ঘটনার পর হতে পলাতক রয়েছে। তাওহিদের মা হাসনাহেনা জানান, প্রায় চার বছর পূর্বে ছেলেকে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করেন, বর্তমানে সে ১৮ পারা কোরআন মুখস্থ করেছিল, কিন্তু মাদ্রাসা থেকে ছেলের লাশ বাড়ীতে আসবে কখনও ভাবেননি। সোমবার সরজমিন ওই মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায় ছোট ছোট ছেলেরা ভিতরে বাহিরে দৌড়াচ্ছে, ওই সময় কোন শিক্ষককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কোন কোন অভিভাবক তাদের শিশুদের নিয়ে যাচ্ছেন। তাওহিদের সহপাঠি নূর আলম ও মিনহাজ সহ সকলেই জানান গত ২৩ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার রাতে পড়া না পারার কারনে ওই হাফেজ মোটা একটা লাঠি দিয়ে তাওহিদকে মেরেছিলো।
এ ব্যাপারে ওই মাদ্রাসার সভাপতি আঃ হামিদ জানান, বিষয়টি তিনি জানতো না সোমবার সকালে জানতে পেরেছেন। তার কথায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে। একজন দায়িত্ববান সভাপতি এমন কথা বলতে পারেনা। এতোদিন আগের ঘটনা অথচ তিনি কিছুই জানেননা। এদিকে ঘটনার পর হতে আবাসিক ছাত্রদের মাদ্রাসায় ফেলে সকল শিক্ষকরা গাঢাকা দিয়েছে। অভিভাবকগণ আতংকিত হয়ে যে যার মত ছাত্রদের নিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন-অর রশীদ (পিপিএম) জানান, লাশ ময়না তদন্তে পাঠানো হয়েছে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।