শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন
জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি::
ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বীতার কারনেই চাচাত ভাইয়ের হাতে নির্মম ভাবে খুন হন তরুন ব্যবসায়ী কামার হাবিবুর রহমান হাবিব(২৩)। গ্রেফতার ঘাতক চাচাত ভাই এরশাদ (৩৫) আদালতে তার জ্যাঠাত ভাইকে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
নিহত হাবিবুর রহমান হাবিব লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের বুমকা এলাকার কামার আব্দুল গনির ছেলে। গ্রেফতার ঘাতক এরশাদ ওই এলাকার নুরজামালের ছেলে। নিহতের জ্যাঠাত ভাই।
রোববার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন এ ক্লুলেস হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোজাম্মেল হক।
ঘাতকের দেয়া আদালতের জবানবন্দির বরাত দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে বাবার কামারি কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন হাবিবুর রহমান হাবিব। দিনভর বাবা’র হাতে তৈরী দা-বটি, কুড়াল, কোদাল, কাস্তে, বেকিসহ সকল মালামাল বিক্রির জন্য কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন বাজারে পাইকারী বিক্রি করেন হাবিব। শিক্ষিত হাবিব বাজারজাত করায় তার পন্যের উপর আকৃষ্ট হয় ক্রেতারা। ফলে তার চাচাত ভাই এরশাদের কামারি ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দেয়।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হাবিবকে হত্যার পরিকল্পনা করে ঘাতক চাচাত ভাই এরশাদ। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই গত বছরের ২৬ আক্টোবর রাতে কৌশলে বাড়ির পাশে ধরলা নদীর পাড়ে শীবেরকুটি কলাবাগানে নির্জন এলাকায় হাবিবকে ডেকে নেয় এরশাদ। এরপর গল্পের এক ফাঁকে লোহা পেটানো বড় হাতুরী দিয়ে মাথায় বেশ কিছু আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে ছটকে পড়েন ঘাতক এরশাদ। পর দিন স্থানীয়দের খবরে সদর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে। যাতে স্বাক্ষর করে ঘাতক এরশাদ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল গনি বাদি হয়ে অজ্ঞতনামা আসামী করে সদর থানায় মামলা(৩৭) দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার ওসি(তদন্ত) রায়হান আলী সাড়ে তিন মাসেও কোন ক্লু উৎঘাটন করতে পারেননি।
অবশেষে ক্লুলেস এ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে সদর থানার পরিদর্শক(নিরস্ত্র) মোজাম্মেল হককে দায়িত্ব দেন পুলিশ সুপার। এরপর নিহত হাবিবের ফোন কলের লিষ্টসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তদন্ত করে মাত্র ৭ দিনে হত্যার ক্লু উৎঘাটনে সমর্থন হন তদন্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক। এরপর ঢাকায় অবস্থানরত ঘাতক এরশাদকে গ্রেফতার করে হত্যার হাতুরীটি জব্দ করে শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আদালতে হাজির করে জবানবন্দি নেন বিচারক। এ সময় চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদি হাসান মন্ডলের আদালতে জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেন গ্রেফতার ঘাতক এরশাদ।
লালমনিরহাট পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক জানান, ক্লুলেস স্বপন হত্যা মামলায় ৬ দিনে ক্লু উদ্ধার করায় হাবিব হত্যা মামলাটিও পরিদর্শক মোজাম্মেল হককে দেয়া হয়। এ ক্লুলেস হত্যা মামলার ক্লু উৎঘাটনসহ ঘাদককে মাত্র ৭ দিনে গ্রেফতার করতে সক্ষম হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাকে পুরুস্কৃৃত করা হয়েছে। মুলত ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বীতায় এ হত্যাকান্ড ঘটেছে বলেও দাবি করেন তিনি।