বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ

বুড়িমারীতে সিলোকোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে শ্রমিক নেতার মৃত্যু

লালমনিরহাট প্রতিনিধি::

লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে এবার সিলোকোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে পাথর শ্রমিক সমিতির সভাপতি মোমিন মিয়ার (৩৪) মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মোমিন মিয়া পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের উফারমারা নাটারবাড়ি গ্রামের সহিদার রহমানের ছেলে। তিনি বুড়িমারী পাথর শ্রমিক সমিতির সভাপতি ছিলেন।

মৃত শ্রমিক নেতা মোমিন মিয়ার ভাই আসাদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন পাথর শ্রমিকের কাজ করতেন মোমিন। যখন তিনি জানতে পারেন পাথর শ্রমিকদের সিলোকোসিস রোগ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তখন মোমিন মিয়া শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা খরচসহ বিভিন্ন দাবিতে পাথর শ্রমিকদের নিয়ে সংগঠন গড়ে তোলেন। এ কারণেই দীর্ঘদিন পাথর শ্রমিক সমিতির সভাপতি ছিলেন মোমিন মিয়া। তার নেতৃত্বে বুড়িমারীর পাথর শ্রমিকরা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) মাধ্যমে ঢাকা বক্ষব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। তবে এ রোগে আক্রান্ত কোনো রোগীই সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পারেননি। পেটের দায়ে পাথর ভাঙার কাজ করা মোমিন উদ্দিনও আক্রান্ত হন মরণব্যাধি সিলোকোসিস রোগে। ২০১২ সালে এ রোগ ধরা পড়লে বিয়ে করেননি মোমিন। এরপর প্রায় সময় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি সিলোকোসিসে অসুস্থতা বাড়লে ১৫ দিন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেন মোমিন উদ্দিন। গত বৃহস্পতিবার অসুস্থতা বোধ করলে তাকে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তিনি মারা যান।

উল্লেখ্য, ২০০০ সালে ভিক্টরি মোজাইক কোম্পানি নামে ক্র্যাশার মেশিন সর্বপ্রথম বুড়িমারী স্থলবন্দরে স্থাপন করেন। এরপর থেকে বাড়তে থাকে পাথর ক্র্যাশার মেশিনের সংখ্যা। একই সঙ্গে বাড়তে থাকে সিলোকোসিসে শ্রমিক মৃত্যুর সংখ্যাও। বেসরকারি একটি সূত্রমতে এ পর্যন্ত ৭২ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে মরণঘাতি সিলোকোসিস রোগে। সর্বশেষ মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হলেন পাথর শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে শ্রমিক নেতা মোমিন উদ্দিনও।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com