সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ন
আনাস আহমেদ, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি ॥
রাজধানী থেকে ঢাকা- ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বর সড়ক। কিন্তু সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বসা অবৈধ হকারদের কারণে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে পথচারী ও স্থানীয়দের। প্রশাসনের একাধিক উচ্ছেদ অভিযানের পরও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। উচ্ছেদের পর অল্প সময়ের মধ্যেই আবার সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বসছেন হকাররা।
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যানজট নিরসনের লক্ষ্যে গত ৩ মার্চ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ও ঢাকা জেলা দক্ষিণ ট্রাফিক পুলিশ কদমতলী গোলচত্বর সড়ক ও ফুটপাত থেকে শতাধিক অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে। এতে দুই দিন সড়কটি দখলমুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে আবার সেখানে দোকান বসতে শুরু করেন হকাররা।

এরপর গত ৮ মার্চ কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন যৌথবাহিনীর সহযোগিতায় কদমতলী, জিনজিরা ও আগানগর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সড়কে থাকা অবৈধ দোকানপাট সরিয়ে দেয়। কিন্তু পরদিনই হকাররা আবার সড়কের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জায়গা দখল করে দোকান বসান।
সবশেষ গত ১১ মার্চ সেনাবাহিনী কদমতলী সড়কে আবারও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ দোকানপাট সরিয়ে দেয়। তবে আগের মতো সেদিন রাতেই ফের সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বসেন হকাররা। এতে পথচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
রোববার (১৫ মার্চ ২০২৬) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কদমতলী গোলচত্বর সড়কের দুই পাশের ফুটপাত ও সড়কের বড় অংশ জুড়ে অবৈধ দোকানপাট বসানো হয়েছে। এসব দোকানে ক্রেতাদের ভিড় থাকায় সড়কের চলাচলের জায়গা আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অনেক ক্রেতাকে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করতে দেখা যায়। ফলে যানবাহন চলাচলের পথ সরু হয়ে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ফুটপাত দখল হয়ে থাকায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় সড়ক দিয়ে শিশুকে নিয়ে হাঁটছিলেন এক নারী। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ফুটপাত দিয়া তো হাঁটার উপায় নাই। বাচ্চা লইয়া রাস্তা দিয়া হাঁটতেছি, গাড়ি আইলে ভয় লাগে। এহন যদি দুর্ঘটনা হয়, দায় নেবে কে?
কদমতলী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মেরাজ হোসেন বলেন, উচ্ছেদ হয়, আবার দোকান বসে। দুইদিন শান্তি থাকে, তারপর আবার আগের অবস্থা। এভাবে চললে তো সমস্যার কোনো সমাধান হইবো না।
পথচারী কাওসার আহমেদ বলেন, আমরা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়া যাই। ফুটপাত তো দোকানে ভরা। বাধ্য হইয়া রাস্তা দিয়া হাঁটতে হয়। গাড়ির চাপের মধ্যে চলাফেরা করা খুবই কষ্টকর। সরকার এইসব অবৈধ দোকান তুইলা দিলে আমগো অনেক উপকার হইবো।
আরেক পথচারী শোয়েব আলী আক্ষেপ করে বলেন, প্রশাসন আইলে একদিন-দুইদিন দোকান নাই। পরে আবার আগের মতো। এইটা যদি বন্ধ না হয়, মানুষ কেমনে চলাফেরা করবে?
শহীদনগর এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধ ছগীর মিয়া বলেন,
এই রাস্তা আগে অনেক খোলা আছিল। এহন সব দোকানে ভরা। হাঁটা-চলা করা দায় হইয়া গেছে। প্রশাসন যদি শক্তভাবে না ধরে, এই সমস্যা কোনোদিন শেষ হইবো না!
গত ৮ মার্চ যৌথবাহিনীর উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি নিপুণ রায়। তিনি বলেন, গত ১৭ বছর ধরে কদমতলী সড়কের দুই পাশ দখল করে রাখা হয়েছে। জনভোগান্তি দূর ও সড়কে চলাচল নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দোকানিদের অন্যত্র পুনর্বাসনের বিষয়েও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যদি দখল বা মাদক কর্মকাণ্ডে আমাদের কোনো নেতা- কর্মী জড়িত থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস দক্ষিণ) তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, কোনো অবস্থাতেই সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দোকান বসতে দেওয়া যাবে না। ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।