সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন
লালমনিরহাট প্রতিনিধি::
ঘরের আসবাবপত্র তৈরীর জন্য অনুমতি ছাড়াই কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের চাকলারহাট বাজারের সমাজসেবা অফিসের পুরাতন হল রুম ভবনের সামনের ৪০ বছরের সরকারী একটি জীবন্ত কাঁঠাল গাছ কাটলেন লালমনিরহাট সমাজসেবা অফিসের লোকজন। যার আনুমানিক মুল্য দেড় লক্ষ টাকা বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে গেলে কর্তনকৃত কাঠাল গাছটি অবসর প্রাপ্ত সমাজসেবা কর্মচারী মোজহার আলীর বাড়িতে দেখতে পাওয়া যায়।
জানা যায়, কিছুদিন আগেও কালীগঞ্জ উপজেলার চাকলারহাটের সমাজসেবা অফিসের ওই হল রুমটি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহার হয়ে আসছিল। সম্প্রতি সেটি পুরাতন হয়ে পড়ায় সেখানে সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে সকল কার্যক্রম বন্ধ হলেও সমজসেবা অফিসের ওই স্থাপনাটি দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হয় ভবনের পিছনে বসবাসকারী অবসর প্রাপ্ত সমাজসেবা কর্মচারী মোজাহার আলীকে। দির্ঘদিন কোন খোজ খবর না নেয়া স্থাপনাটির যাবতীয় জিনিসপত্র মোজাহারের মাধ্যমে বিক্রি করে টাকা আত্মসাত করে কালীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শুকান্ত সরকার ও সমাজসেবা কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ রায়। নিজেদের ঘরের আসবাবপত্র তৈরীর জন্য সম্প্রতি স্থাপনার সামনে ও মুল সড়কের পাশে প্রায় ৪০ বছরের পুরনো সরকারী একটি জীবন্ত কাঠাল গাছ কাটে সমাজসেবা অফিসের লোকজন। বিষয়টি জানাজানি হলে রাতের অন্ধকারে কাঠাল গাছের অধিকাংশ কাঠ সরিয়ে ফেলে তারা। পরে গাছের কিছু অংশ সেখানেই রাখা হয়। পরবর্তীতে সেগুলোও সুচতুর মোজাহার তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে রাখে বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় কবির মোল্লা, আহসান উল্লাহ, ও মমিন মিয়া জানান, আমরা এলাকার লোকজন প্রায় ৩৫/৪০ বছর থেকে এই গাছের কাঠাল খেয়ে আসছি। গরমের দিনে রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী অনেক পথচারী এই গাছের নিচে বসে শরীর জিরিয়ে নিতেন। হঠাৎ করে একদিন দেখি এক সময়ের সমাজসেবা অফিসে চাকুরী করা মোজাহার আলী সেই কাঠাল গাছটি কাটছে। আমরা তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন অফিসের অনুমতি নিয়েই গাছ কাটা হচ্ছে। পরে জেলা সমাজসেবা অফিসে ফোন দিলে তরিঘরি করে রাতের অন্ধকারে গাছটির অধিকাংশ অংশ সড়িয়ে ফেলে গাছের একটি অংশ ও ডালপালা রেখে দেয়।
অবসর প্রাপ্ত সমাজসেবা কর্মচারী মোজাহার আলী জানান, বসের বাসায় কিছু আসবাবপত্র তৈরী করবেন বলে আমাকে গাছটি কাটতে বলে। তাদের কথা মতোই তিনি গাছ কাটেন বলে জানান।
কালীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শুকান্ত সরকার জানান, লোক মুখে জানার পর ঘটনা স্থলে গিয়ে কর্তনকৃত গাছটি আমাদের হেফাজতে নেই এবং পরে স্থাপনার সামনেই গাছটি রাখা হয়। কিন্তু অনুমতি ছাড়া কিভাবে সরকারী একটা জীবন্ত গাছ কাটলো এর কোন সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
লালমনিরহাট জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ রায় জানান, গাছ কাটার বিষয়টি জানার পর তিনি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছেন। তবে এখন গাছটি কি অবস্থায় আছে কোথায় আছে তার জানা নেই। বিষয়টি জেনে পরে জানাবেন বলে তিনি জানান।