বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪০ অপরাহ্ন
শাহজাহান হেলাল, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়ন্তী রুপা রায়ের উপস্থিতিতে একদল দূষ্কৃতিকারীরা একটি ইট ভাটার ৫ টি গাড়ী ভাংচুর ও সংখ্যা লঘু বিধবা নারীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে জমির কাগজ-পত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মালিকানা নিয়ে বিরোধ পূর্ণ একটি জমিতে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার বানা ইউনিয়নের পন্ডিতবানা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে
জানা যায় ওই গ্রামের অসহায় বিধবা ও এক পঙ্গু সন্তানের জননী লক্ষিরানী বিশ্বাস সম্প্রতি তার স্বামী মৃত গণেশ বিশ্বাসের রেখে যাওয়া দুই একর জমির উপর পুকুর কাটার উদ্যোগ নেন।
এ লক্ষে তিনি স্থানীয় আল-আলী অটো ব্রিক্স নামক একটি ইটভাটার সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। ভাটা কর্তৃপক্ষ জমিতে মাটি কাটার কাজ শুরু করলে তাতে বাধা প্রদান করে একই গ্রামের হুমায়উন মোল্য, রাসেল মোল্যার নেতৃত্বাধীন একটি প্রভাবশালী মহল। তারা এ ব্যাপারে একটি দরখাস্তও দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়ন্তী রুপা রায়ের বরাবর।
এ প্রেক্ষিতে তিনি ঘটনার দিন বিকেলে বিষয়টি তদন্তের জন্য ঘটনা স্থলে আসলে অভিযোগকারী পক্ষও সেখানে উপস্থিত হন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়ন্তী রুপা রায় ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে হুমায়উন মোল্যা, রাসেল মোল্যা, বায়জীদ মোল্যা, রিপন মোল্যা গং এর নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের একদল দূর্বৃত্ত লাঠি-শোঠা ও ধারালো অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত ৫ টি গাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর করে। তারা লোহার রড, হাতুড়ী দিয়ে গাড়ি গুলোর হেড লাইট, তেলের ট্যাঙ্কি সহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ পিটিয়ে তছ-নছ করে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে টায়ার গুলো কুপিয়ে কেটে ফেলে। দূর্বৃত্তরা এ সময় ঘটনা স্থলে অবস্থিত বিধবা লক্ষীরানীর বসত ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর শেষে টিনের বাক্স থেকে জমি-জমার মূল্যবান কাগজ পত্র লুটে নিয়ে যায়। এ সব ঘটনার সময় জয়ন্তী রুপা রায় রহস্য জনক কারনে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন। তান্ডবকারীদের নিয়ন্ত্রন না করে তিনি বরং উল্টো ভাংচুরকৃত গাড়ির এক চালক বেলায়েতকে (৩০) ধরে নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ৭দিনের জেল দিয়েছেন বলে প্রত্যাক্ষদর্শীদের অভিযোগ। কান্না জড়িত কন্ঠে ক্ষতিগ্রস্থ অসহায় বিধবা লক্ষী রানী সাংবাদিকদের বলেন, একটি প্রতিবন্ধী ছেলে ছাড়া পৃথিবীতে আমার আর কেউ নেই। বাড়ির পাশের এই জমি টুকু রেখে ৫/৭ বছর আগে স্বামী মারা যান। এই জমি টুকুন আমার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু তাও ওরা কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করছে ভূয়া কাগজ বানিয়ে। প্রশাসনের লোকজন আমার পাশে না দাড়িয়ে ওদের সহযোগীতা করছে। তাদের সামনে নির্বাহী কর্মকর্তা আমার ঘরে হামলা করে জমির কাগজ-পত্র, নগদ টাকা নিয়ে গেছে ওরা। আমি এখন কার কাছে বিচার চাবো। স্থানীয় তিন ইউপি সদস্য তবিবর মল্লিক, কাজী বাকা ও অলিয়ার রহমান ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, নির্বাহী কর্মকর্তার সামনে ওরা এত ক্ষতি সাধন করলো অথচ তিনি কিছুই বললেন না। আমরা বার বার তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও তিনি না দেখার ভান করে এড়িয়ে যান।
অন্যায় হলে তিনি এগুলো জব্দ করে নিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু ভাংতে দিলেন কেন? এ ব্যাপারে ভাটা মালিক সামচুদ্দিন মিয়া ঝনু বলেন, আমার ভাটার গাড়ি ভাংচুরের ক্ষতির পরিমাণ ১কোটি টাকা হবে। উদ্দেশ্যমূলক ভাবে নির্বাহী কর্মকর্তা, এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে দাড়িয়ে থেকে তাদের স্টাফ ও দুরবৃর্ত্তদের দিয়ে আমার গাড়ি ভাংচুর করিয়েছে।
নির্বাহী কর্মকর্তা জয়ন্তী রুপা রায় বলেন, ওটা আমার ভিপি সম্পত্তি, সেটা রক্ষার দায়িত্ব আমার। গাড়ি ভাংচুর কারা করেছে তা আমি জানি না।