রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ন

ফরিদপুরে প্রসূতির মৃত্যুতে পৌনে তিন লক্ষ টাকার বাণিজ্য

শাহজাহান হেলাল, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি॥ ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসদরের মোল্যা আহম্মেদ হোসেন মেমোরিয়াল হাসপাতালে গত সোমবার রাত সাড়ে নয়টায় এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয় ওই মা। অপরদিকে প্রসূতির মৃত্যু নিয়ে ২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার বাণিজ্য হয়েছে বলে জানা গেছে।

ক্লিনিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা উপজেলা পাচুড়িয়া ইউনিয়নের দেউলী গ্রামের মো. মামুন মোল্যার স্ত্রী সোহাগী বেগমকে (১৮) সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। রাত সাড়ে নয়টায় সেজার অপারেশন শুরু হয়। অপারেশনে সে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর পরই সোহাগী বেগম মারা যায়। মৃত্যুর খবর শুনে রোগির স্বজনরা ক্লিনিক ঘেরাও করে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ স্থানীয় লোকজন এবং পুলিশের সহায়তা নেয়। পরে রোগির স্বজনদের সাথে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের একটি আপোষ মিমাংসা হয়। মোল্যা আহম্মেদ হোসেন মেমোরিয়াল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জেনালে ম্যানেজার রেজাউল করিম রাজা বলেন, রোগির স্বজনদের সাথে আড়াই লক্ষ টাকার মিমাংসা হয়েছে। পুলিশ, সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন, চতুল গ্রামের বাবলু শরীফ, উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান মৃধা রুকু, ক্লিনিক ল্যাব এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মাসুদুর রহমানসহ গণ্যমান্য বক্তিবর্গের উপস্থিতিতে মিমাংসা হয়। তাদেরকে নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং ২ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। বুধবার টাকা নিয়ে চেক ফেরত দেওয়ার কথা রয়েছে। সাংবাদিক এবং থানা পুলিশ ডাক্তারের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এরকম ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। হাঠৎ করেই এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এটি নিছকই একটা দূর্ঘটনা।

অপারেশন করা ডা. তাপস বিশ্বাস বলেন, সাইলেন্ট হার্ট এ্যাটাকে রোগির মৃত্যু হয়েছে। তারপরও আপোষ মিমাংসার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার জন্য সাংবাদিক মো. আনোয়ার হোসেনকে ক্লিনিক ল্যাব এসোসিয়েশনের সভাপতি মাসুদুর রহমানের সামনে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। থানা পুলিশের বিষয়টি এখনও সমাধান হয়নি।

বোয়ালমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, মাদক মামলা আসামি ধরার জন্য শুকতারা হোটেলের সামনে ছিলাম। ক্লিনিকিরে সামনে লোকজন দেখে এবং হট্টগোল শুনে ক্লিনিকে গিয়ে রোগির মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারি। পরিস্থিতি শান্ত হলে ক্লিনিক রোগির স্বজনদের অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলে আসি। এ পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। মিমাংসার কোন বিষয় আমার জানা নেই।

সাংবাদিক মো. আনোয়ার হোসেন ২৫ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ১৫ হাজার টাকা কয়েকজনকে দেওয়া হয়েছে। ১০ হাজার টাকা আমার কাছে আছে। ক্লিনিক ল্যাব এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মাসুদুর রহমান বলেন, সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার কথা বলে সাংবাদিক মো. আনোয়ার হোসেন ডা. তাপস বিশ্বাসের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়েছে।

এ ব্যাপারে প্রসূতির স্বামী মো. মামুন মোল্যার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com