বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ন
লালমনিরহাট প্রতিনিধি::
প্রভাবশালীর কাটাতারের বেড়ায় ৪০ ভূমিহীন পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে ২ দিন ধরে বন্দি জীবন যাপন করছেন। ভুমিহীন পরিবারগুলাের ভবিষ্যৎ এখন বন্দি ওই কাটাতারের বেড়ায়।
ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার খুর্দ্দ বিছনদই গ্রামে। ভুমিহীন পরিবারগুলাের সদস্যরা এখন ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে ওই কাটাতারের ভিতর। বাড়ি থেকে বাহির হতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছে ৫শতাধিক মানুষ।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, তিস্তা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে বসত বাড়ী হারা ভুমিহীন পরিবার গুলাে আশ্রয় নেয় হাতিবান্ধা উপজেলার খুর্দ্দ বিছনদই এলাকার জেলা পরিষদের পরিত্যাক্ত সড়কে। পরিবারগুলাে দারিদ্রতার মাঝে একেক জন ৫০/৬০ বছর ধরে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছে। কেউ দিনমজুর কেউ বা রিক্সা চালিয়ে চালিয়ে সংসার চালায়। ওই পরিবারগুলাের মাঝে দারিদ্রতার ছাপ স্পস্ট লক্ষ করা যায়। ঘর বাড়িতে নেই কােন আসবাবপত্র। কাজ করলে পেটে ভাত যায় কাজ না করলে যায় না ওইদিন পরিবার পরিজন নিয়ে উপোষ থাকতে হয়। এই পরিবার গুলাে জেলা পরিষদের ওই পরিত্যাক্ত সড়কে ভূমিহীন পরিবার হিসাবে বসবাস করে আসছে।
জেলা পরিষদের ওই পরিত্যাক্ত সড়কের জায়গাটি দখল করার জন্য এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যাক্তি তাদের উচ্ছেদ করার জন্য এই চেষ্টা করছে বলে ভুুুুক্ত ভোগিরা অভিযোগ করছেন। ওই ভুমিহীন ৪০ পরিবারকে উচ্ছেদ করে তাদের বসত বাড়ীর উপর দিয়েই একটি গ্রামীন সড়ক তৈরীর নীল নকশা করছে। ভুমিহীন পরিবার গুলাের দাবী তাদের শেষ সম্বল থেকে উচ্ছেদ করার জন্য প্রতি রাতে প্রভাবশালীদের লােকজন তাদের বসত বাড়িতে বড় বড় পাথর ঢিল ও বালু দিয়ে ঢিল ছুড়ে তাদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছে। হাট বাজারে গেলে নানান ভাব হুমকি ও তাদের মেয়েরা স্কুলে যাওযার পথে বখাটে ছেলেদের দিয়ে অত্যাচার করে।
ভােটমারী এলাকার প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা গােলাম মাের্ত্তুজা হানিফ জেলা পরিষদের পরিত্যাক্ত সড়কে নিজের সড়ক বলে দখল করে সেখানে কাটাতারের বেড়া দিয়েছেন। এতে করে ৪০ ভুমিহীন পরিবারেরর লোকজন কাটাতারের বেড়ায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না ওই পরিবার গুলাে। শিশুরা কাটাতারের বেড়ার কারনে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় স্কুলে যেতে পারছে না। এখন ৪০ পরিবারের ওই প্রায় ৫শতাধিক মানুষ বসত-বাড়ি হারিয়ে ফেলার চিন্তায় দিন পার করছেন।
৪০টি পরিবারের মধ্যে ১২টি সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যরাও নদীতে সবকিছু হারিয়ে সরকারী সড়কে আশ্রয় নিলেও প্রভাবশালীদের দাপটে মারাত্মক ভয়ে রয়েছে। দেখে মনে হয় কাটাতারের বেড়ায় অবরুদ্ধ মানবতা।
ভুক্তভোগী নরেশ চদ্র জানান, কাটাতারর বেড়ার কারনে বাড়ি থেকে বের হওয়া যায় না। সরকারী জমি দখল করে কাটাতারের বেড়া দিয়ে হামার রাস্তা বন্ধ করি দিছে। ফির প্রতি আইতত (রাতে) ভয় দেখায়।
ভুমিহীন আক্কাস আলী জানালন, ৪০ বছর ধরি (ধরে) সড়কােত বাড়ী করি আছি এলা হামাক গুলাক তুলবার চায়। এলা হামরা (আমরা) কনটে (কোথায়) যামাে.? হামার বাড়ির সামনােত (সামনে) কাটাতারর বেড়া দিয়ে হামার হাটপার (হাটতে) পাই না।
৪০বছরের জমিলা বেওয়া কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, হামরা নদী ভাঙ্গা মানুষ, হামার কোন জায়গা নাই। হামার বাড়ির সামনোত কাটাতারের বেড়া দিছে এলা হামরা বেড়বার পাইনা। এলা হামরা কােনটে যাই কাটাতারের বেড়া দিছে চইলবার পাছি না।
তাহের মিয়া জানান, বাড়ি তুলবার জন্য হুমকি দেয়, হামরা ভুমিহীন মানুষ কােনটে যাই।
ওদিকে প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা গােলাম মুর্ত্তুজা হানিফ জানায়, ওই জমি জেলা পরিষদের নয়, আমার নিজের জমি তাই আমি কাটাতারের বেড়া দিয়েছি। তার কাটাতারের বেড়া দেওয়ার কারনে ভূমিহীন পরিবার গুলাে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান রেজ্জাকুল ইসলাম সায়েদ জানান, সড়ক দিয়ে কাটাতারের বেড়া দিলে পরিবার গুলাে উঠে যাবে, তার পর ওই সড়ক দিয়ে গ্রামীন সড়ক নিমার্ন করা হবে এ জন্য বেড়া দিয়েছি।
ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রেজ্জাকুল ইসলাম সায়েদ জানান, সড়ক নিমার্ন দ্রুত করা হবে ওই স্থান দিয়ে এর জন্য টেন্ডার হয়ে গেছে। ভুমিহীন পরিবার গুলাে অন্য স্থানে সরে গেলে রাস্তার কাজ শুরু করা হবে। না হলে অর্থ সরকারের ঘরে ফেরত চলে যাবে।
তবে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাডভােকেট মতিয়ার রহমান জানান, জেলা পরিষদ এর পরিত্যাক্ত সড়কে নদী ভাঙ্গা অসহায় পরিবার গুলাে অশ্রয় নেয়। তারা সেখানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে বসত বাড়ী করে বসবাস করছে। তবে জেলা পরিষদ থেকে তাদের উচ্ছেদ করার কােন প্রশ্নই উঠে না। তবে পাশ দিয়ে ছােট রাস্তা হলে হয়তাে পরিবার গুলাের সামান্য জমি ছাড়তে হতে পারে। এছাড়া কাউকে উচ্ছেদ করার সিদ্ধান্ত হয়নি।
ওদিকে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে কালীগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মােঃ রবিউল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, কাটাতারের বেড়া দিয়ে কাউকে অবরুদ্ধ করে রাখা উচিত হয়নি। আর যে স্থানে কাটাকারের বেড়া দিয়েছে দেখা যাচ্ছে ওই জায়গা সম্ভবত জেলা পরিষদের হবে তাই পুনরায় জায়গাটি মেপে দেখার জন্য সার্ভেয়ারকে বলা হয়েছে।