শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৫ অপরাহ্ন
জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি::
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ট্রাক ও ১২টি মটরসাইকেলে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (৫ মার্চ) রাত ৮টা থেকে দফায় দফায় এ সংঘর্ষ চলে। রাত সাড়ে ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের পাটগ্রাম কলেজ মোড় ও বাউরা মোড়ে অবরোধ চলছিল।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্র্শীরা জানান, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পাটগ্রাম উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দুই জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ মনোনীত রুহুল আমিন বাবুলের (নৌকা) সঙ্গে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ওয়াজেদুল ইসলাম শাহীন (আনারস)। উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন এলাকায় সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর নির্বাচনী সভা শেষে কর্মী সমর্থকরা বের হতে থাকলে নৌকা প্রতীকের কর্মী সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে মোতাহার, তামজিদ ও সুমন নামে তিন জন কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন আনারস সমর্থক বুড়িমারী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সম্পাদক বাদশা মিয়া।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক পাটগ্রাম শহরের প্রবেশদ্বার কলেজ গেটে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে আনারস প্রতীকের কর্মী সমর্থকরা। এ সময় তারা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে হামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল করে। খবর পেয়ে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল করিম ও ওসি সাজ্জাত হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। এসময় ফের বুড়িমারী বাজারে উভয়পক্ষের সংঘর্ষ বাধে। বিক্ষুদ্ধ আনারস সমর্থকরা কয়েকটি ট্রাক ও ১০/১২টি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। পাটগ্রাম উপজেলার প্রবেশপথ বাউরা বাজারেও অবরোধ করে রেখেছে আনারসের সমর্থকরা। এতে উভয় পাশে অর্ধসহস্রাধিক পণ্যবাহী ও ঢাকাগামী যাত্রীবাহী নাইট কোচ আটকা পড়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঢাকাগামী নাইট কোচ গুলো ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে পারেনি।
এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে পুরো পাটগ্রাম উপজেলার মানুষ। রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের তথ্য জানা যায়নি। রাত সাড়ে ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় সংঘর্ষ চলছিল।
পাটগ্রাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাত হোসেন বলেন, উপজেলা নির্বাচনের দুই প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা এখন পর্যন্ত থেমে থেমে চলছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. শফিউল আরিফ বলেন, ‘ইতিমধ্যে পাটগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তাকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। তাছাড়া সেখানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জনগণের অংশগ্রহন মুলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে নিñিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরির কাজ চলছে।