শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০১:০১ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন: কার্য উপদেষ্টাসহ ৫ সংসদীয় কমিটি গঠন, পর্যালোচনায় আসবে ১৩৩ অধ্যাদেশ ধামরাইয়ে জরাজীর্ণ মিটারে বারবার আগুন: নতুন সংযোগে পল্লী বিদ্যুতের ‘গড়িমসি’, আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা রাষ্ট্রপতির পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও নৈতিকতা: পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল রাজনৈতিক অঙ্গন ইরানে সরকার পতন সম্ভব নয়: ইসরায়েলের ‘অসহায়’ স্বীকারোক্তি হরমুজ প্রণালিতে ৩ জাহাজে ভয়াবহ হামলা: একটিতে আগুন, নাবিকদের উদ্ধার সালথায় আওয়ামী আমলের সারের ডিলার বাতিলের দাবিতে উত্তাল মানববন্ধন ঝুঁকিপূর্ণ মিটারে অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্ক: ধামরাইয়ে নতুন সংযোগ দিতে পল্লী বিদ্যুতের গড়িমসি ও মালিকপক্ষের অসহযোগিতার অভিযোগ জমে উঠেছে ইসলামপুর ঈদের বাজার, খুশি ব্যবসায়ীরা ॥

ধামরাইয়ে জরাজীর্ণ মিটারে বারবার আগুন: নতুন সংযোগে পল্লী বিদ্যুতের ‘গড়িমসি’, আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ধামরাই (ঢাকা) ॥
ধামরাই (ঢাকা): ঢাকার ধামরাই উপজেলার ঢুলিভিটা পাইকারি কাঁচাবাজার ও মৎস্য আড়ত মার্কেটে জরাজীর্ণ ও ওভারলোডেড বিদ্যুৎ মিটারের কারণে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। বাজারের ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সঠিক লোডের নতুন মিটার সংযোগের জন্য আবেদন করলেও ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর ধামরাই জোনাল অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চরম অবহেলা ও গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। ফলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বাজারের সকল ব্যবসায়ী।

বিপজ্জনক পরিস্থিতি ও বারবার অগ্নিকাণ্ড:
বাজার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, বাজারে বর্তমানে স্থাপিত পুরনো মিটার অতিরিক্ত লোড নিতে পারছে না। ফলে ঘনঘন শর্ট সার্কিট হচ্ছে, বিদ্যুতের তার পুড়ে যাচ্ছে এবং ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ড ঘটছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, আগুনের তাপে দোকানের টিন পুড়ে ভেতরে আগুন ঢুকে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সর্বশেষ গত ১০ মার্চ পাশের একটি বাজারেও ওভারলোডের কারণে মিটারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে, যা পল্লী বিদ্যুতের তালিকাভুক্ত ইলেকট্রিশিয়ান বেনজির আহমেদ সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেছেন।

আবেদন ও কর্মকর্তাদের টালবাহানা:
বাজারের সার্বিক নিরাপত্তা ও আগুনের ঝুঁকি এড়াতে গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পুনরায় মিটার নামানোর যথাযথ নিয়ম মেনে এবং প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র (পুরানো সংযোগের সকল কাগজপত্র) জমা দিয়ে নতুন সংযোগের আবেদন করা হয়। পল্লী বিদ্যুৎ অনুমোদিত ইলেকট্রিশিয়ান বেনজির আহমেদের মাধ্যমে আবেদনটি গৃহীত হওয়ার পর সর্বশেষ পর্যায় দ্রুত সংযোগের জন্য ধামরাই জোনাল অফিসের ডিজিএম-এর (লিপি ম্যাডাম) কাছে উক্ত সমস্যার বিস্তারিত জানিয়ে অনুরোধ জানানো হয়। সে সময় তিনি ‘মিটার স্বল্পতা’র কথা জানান এবং বলেন, মিটার না আসা পর্যন্ত খুব সাবধান থাকতে এবং মিটার আসলে যতদ্রুত সম্ভব সাথে সাথেই সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

তবে বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) অফিসে নতুন মিটার আসার খবর পেয়ে ব্যবসায়ীরা ও বাজার কর্তৃপক্ষ পুনরায় যোগাযোগ করলে পিওসি অফিসার খোরশেদ আলম নানা টালবাহানা শুরু করেন। লাইন নির্মাণ কিংবা কাগজপত্রের ত্রুটির মতো ভিত্তিহীন অজুহাতে তারা সংযোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সব নিয়ম মেনে পুরানো সংযোগের সকল কাগজপত্র দিয়ে টাকা জমা দেওয়া হয় এবং পল্লী বিদ্যুৎ সেই আবেদন একসেপ্ট ও করেছেন এবং ডিজিএম লিপি ম্যাডাম বলেছিলেন, মিটার আসলে যতদ্রুত সম্ভব সাথে সাথেই সংযোগ দিয়ে দিবেন। এতকিছুর পরও পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা রহস্যজনক কারণে সংযোগ প্রদানে বাধা দিচ্ছেন।

ক্ষোভ ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি:
বাজারে কয়েক কোটি টাকার মালামাল ও কাপড়ের দোকান রয়েছে। সাধারণ দোকানদাররা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাজার কর্তৃপক্ষ নিয়ম মেনেই নতুন সংযোগের আবেদন করেছে এবং পল্লী বিদ্যুৎ সেই আবেদন একসেপ্ট ও করেছেন, কিন্তু বিদ্যুৎ অফিস থেকে মিটার সংযোগ না দিয়ে অগ্নিকাণ্ডের মতো ভয়াবহ ঝুঁকি ও সাধারন দোকানদারদের বিপদের কথা বিবেচনা না করে আমাদের বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”

বাজার কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বর্তমান জরাজীর্ণ ও ওভারলোড মিটারের কারণে যদি কোনো বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের মতো ভয়াবহ ঘটনা ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ঘটে, তবে এর সম্পূর্ণ দায়ভার ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিতে হবে। প্রয়োজনে তারা আদালতের শরণাপন্ন হতেও দ্বিধাবোধ করবেন না।

এ বিষয়ে ধামরাই জোনাল অফিসের পিওসি অফিসার খোরশেদ আলমের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com