শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০৪:২৮ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত অধিকাংশ বৈশ্বিক শুল্ক বেআইনি বলে রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আপিল আদালত। আদালতের মতে, এসব শুল্ক আইনের পরিপন্থি এবং প্রেসিডেন্টের এখতিয়ারের বাইরে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রায় ঘোষণার শুনানিতে অংশ নেন ফেডারেল আদালতের ১১ জন বিচারক। তাদের মধ্যে ৭ জন ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেছেন। খবর বিবিসির।
এ রায় আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে এর আগে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সুযোগ থাকছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন তিনি আইনিভাবে এগোবেন।
১২৭ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপে আদালত বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী শুল্ক বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আরোপের এক্তিয়ার কংগ্রেসের (মার্কিন আইন পরিষদ); প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা এক্ষেত্রে সীমিত। শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট (আইইপিএ) আইনের অপব্যবহার করেছেন।
আদালত আরো বলেন, সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর অতিরিক্ত যে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আইইপিএ আইন মানা হয়নি।
এদিকে, এ রায়ে নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশালে তিনি লিখেছেন, যদি এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকে, তবে তা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করবে।” তার দাবি, এসব শুল্ক বাতিল হলে যুক্তরাষ্ট্র আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে এবং সম্পূর্ণ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
হোয়াইট হাউসের আইনজীবীরাও সতর্ক করেছেন, এসব শুল্ক বাতিল হলে ১৯২৯ সালের ধাঁচের আর্থিক পতন ঘটতে পারে, যা মহামন্দার সূচনা করেছিল। তাদের মতে, প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা হঠাৎ কেড়ে নিলে জাতীয় নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতি ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়বে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের বৈশ্বিক শুল্ক নীতি আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। শুল্কের কারণে আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে গেছে, সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে অনিশ্চয়তায় পড়ছেন। এতে বৈদেশিক বিনিয়োগ কমছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা হ্রাস পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদিও ট্রাম্পের নীতি দেশীয় শিল্পকে রক্ষা করতে চেয়েছিল, তবে এর কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে অস্থিরতা এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।