বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় শাশুড়ি দূর্গা রানী বিশ্বাসকে (৬০) মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে নিজ মেয়ের জামাই সুমন মজুমদারের বিরেুদ্ধে। এ ঘটনায় মেয়ের জামাইয়ের বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শ্বশুর জিতেন বিশ্বাস। এর আগে মেয়ের জামাইয়ের বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার। গত মঙ্গলবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০বছর আগে যন্ত্রাইল ইউনিয়নের নবগ্রাম গ্রামের মৃত হারাধন মজুমদারের ছেলে সুমন মজুমদারের (৪৫) সঙ্গে নয়নশ্রী ইউনিয়নের সাপলেজা গ্রামের জিতেন বিশ্বাসের মেয়ে কবিতা বিশ্বাসের (৩৮) বিয়ে হয়। বিয়ের পর মেয়ের জামাইকে বিভিন্ন সময়ে টাকাসহ আট ভরি স্বর্ণালংকার, চারটি গরু এবং বিভিন্ন ধরণের ফার্ণিচার দেন শ্বশুড় জিতেন। তারপরও শ্বশুড় বাড়ি থেকে আরও টাকা এনে দিতে স্ত্রীকে চাপ দেয় সুমন। এঘটনায় স্ত্রীকে প্রায়ই মারধর করতো। টাকা না দিলেই সুমন শ্বশুড়বাড়ির লোকজনকে নানাভাবে হুমকি দিতো বলে অভিযোগে জানা যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক বিচার শালিস করা হয়। এতেও সুমনের আচরণের কোনো পরিবর্তন হয়নি। মঙ্গলবার দুপুরে পাদ্রীকান্দা মাঠে সুমন তার শ্বাশুড়ি দুর্গাকে একা পেয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। শাশুড়ি এতে প্রতিবাদ করলে সুমন তাকে এলোপাথারী মারধর করে আহত করে। এ ঘটনায় দুর্গা রানী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ভর্তি করা হয় নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
শ্বাশুড়ির উপর মেয়ের জামাইয়ের এমন বর্বর হামালার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন পাদ্রীকান্দা ও সাপলেজা এলাকার বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুমনের সঙ্গে কথা বলতে তার বাড়িতে গেলে প্রথমে তার মা বলেন, মায়ের মতো শ্বাশুড়ির গায়ে যদি সুমন হাত তুলে থাকে এটা খুব খারাপ করেছে।
তবে সুমন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমি আমার শ্বাশুড়িকে মারধর করিনি।আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো করা হয়েছে সব সাজানো ও মিথ্যা। তবে তার সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান নবাবগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আনোয়ার আলম আজাদ।