রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৮ অপরাহ্ন

চাকুরী দেয়ার নামে হাতিয়ে নেয়া ৮ লাখ টাকা উদ্ধার করতে খুন

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি॥
বিমান বাহিনীতে চাকুরী বাগিয়ে দেয়ার নামে হাতিয়ে নেয়া ৮ লাখ টাকা উদ্ধার করতে খুন হন লালমনিরহাটের সার ব্যবসায়ী গোলাম হোসেন (৫৮)। মরদেহ পুতে রাখতে সদ্য রোপন করা ধান ক্ষেতে গর্ত খুরে রাখে খুনিরা।
মঙ্গলবার(৩১ জুলাই) নিহতের ছেলে জাহেদুল ইসলাম বাদি হয়ে ওই চক্রের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এর আগে মঙ্গলবার(৩১ জুলাই) সকালে নিজ শয়ন ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।
মৃত সার ব্যবসায়ী গোলাম হোসেন উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের নিথক অচিনতলা গ্রামের মৃত দবির উদ্দিন মুন্সির ছেলে। তিনি স্থানীয় সীমান্ত সিনেমা হল মার্কেটের ক্ষুদ্র সার ব্যবসায়ী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সার ব্যবসায়ী গোলাম হোসেনের বড় ছেলে কৃষি ডিপ্লোমাধারী জাহেদুল ইসলামকে বিমান বাহিনীতে চাকুরী বাগিয়ে দেয়ার নামে ৩ বছর আগে ৮ লাখ টাকা নেন পাশ্ববর্তি গোড়ল ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে আশরাফুল আলম। এরই মাঝে চাকুরীতে যোগানের কথা বলে জাহেদুলকে ঢাকায় নিয়ে যান কিন্তু চাকুরী দিতে ব্যর্থ হন আশরাফুল।
চাকুরীর এ ৮ লাখ টাকা ফেরত দাবি করলে উভয়ের মাঝে বিবাদ লাগে। স্থানীয় ভাবে শ্যালিস বৈঠকে ৪ লাখ টাকা ফেরত দেয়ার জন্য একটি চেক দেন আশরাফুল। কিন্তু সেই চেকের বিপরীতে হিসাব নং এ কোন টাকা ছিল না। এ টাকা উদ্ধার করতে চেকদাতা আশরাফুলের বিরুদ্ধে আদালতে একটি চেক জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন গোলাম হোসেন। সেই মামলায় সোমবার (৩০ জুলাই) রায় ঘোষনার কথা থাকলেও আসামী পক্ষের আইনজিবী আদালতে সময় চেয়ে আবেদন করেন। ফলে রায় ঘোষনার জন্য ২৮ আগষ্ট দিন ধার্য করেন আদালত।
আদালত থেকে বাড়ি ফিরে সোমবার (৩০ জুলাই) দিনগত মধ্যরাতে নিজ ঘরে নৃশংস ভাবে খুন হন বাদি গোলাম হোসেন। মঙ্গলবার ভোরে স্থানীয়দের খবরে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সন্দেহজনক ভাবে জিজ্ঞসাবাদের জন্য আশরাফুলকে আটক করে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। মৃত গোলাম হোসেনের বাড়ির সামনে সদ্য রোপন করা তারই ধান ক্ষেতে প্রায় ৪ফিট দৈর্ঘের একটি গর্ত খুরে রাখে ঘাতকরা। স্থানীয়দের ধারনা ঘাতকরা গোলাম হেসেনের মরদেহটি ওই গর্তে পুতে রাখার পরিকল্পনা করেছিল।
নিহতের ভাতিজা ফজলুল করিম জানান, গোলাম হোসেনের তিন ছেলের দুই ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধি। বড় ছেলে জাহেদুলের চাকুরীর জন্য জমি বিক্রি করে দেয়া ৮ লাখ টাকার জন্য আশরাফুল গংদের সাথে বিবাদ বাদে। যা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এ ছাড়া পুরো এলাকায় কারো সাথে বিবাদ নেই গোলাম হোসেনের।
এ ঘটনায় নিহত গোলাম হোসেনের বড় ছেলে জাহেদুল ইসলাম বাদি হয়ে তিন জনের নামসহ অজ্ঞাত নামা আসামী করে কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দুপুরে ঘটনাস্থলে তদন্তে আসা লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনএম নাসিরুদ্দিন জানান, পাওনা আদায়কে গুরুত্ব দিয়ে অন্যবস দিক বিবেচনায় নিয়ে মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এ মামলায় আটক আশরাফুলকে গ্রেফতার দেখানো হয় বলেও জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com