সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন
মোঃ মনির হোসেন পিন্টু,চরভদ্রাসন প্রতিনিধি::
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও সেই সাথে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চল ও উপজেলা সদর সহ প্রায় তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে, গত কয়েকদিন ধরে পানিবন্দি হয়ে থাকলেও উক্ত পরিবারগুলোতে এখনও পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে মিলছেনা কোনো ত্রান সামগ্রী। এতে গবাদি পশু, বৃদ্ধ ও শিশুদের নিয়ে দুর্বিষহ মানবেতর জীবনযাপন করে চলেছে উপজেলার পানিবন্দি হাজার হাজার পরিবার।
রবিবার সরেজমিনে উপজেলার সদর ইউনিয়ন ও গাজিরটেক ইউনয়ন সহ আরো বেশকিছু স্থান ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চল সহ উপজেলার নিন্মঞ্চল এলাকায় প্রায় পাচঁ হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে এবং সেই সাথে প্রায় তিন হাজার পরিবার সম্পূর্নভাবে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এতে পানিবন্দি পরিবার গুলো গবাদি পশু সহ পরিবারের লোকজনদের নিয়ে একটু নিরাপদ আশ্রয়ের খোজে আশ্রয়কেন্দ্র সহ আশেপাশের বিভিন্ন উচু স্থানে আশ্রয়ের জন্য ছুটে চলেছে।
অপরদিকে, পানি বৃদ্ধির ফলে চরাঞ্চল সহ উপজেলা সদরের প্রায় বেশকিছু এইচবিবি ও কাচা রাস্তা বিধ্বস্ত ও ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়ে বিভিন্ন স্থানের যোগাযোগের ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও রাস্তা-ঘাট। রবিবার উপজেলা সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আজাদ খান, গাজিরটেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইয়াকুব আলী, চরঝাউকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফরহাদ হোসেন মৃধা ও হরিরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আমির হোসেন খান জানান, গত কয়েকদিনের পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের ইউনিয়নের অনেক চরাঞ্চলসহ উপজেলার নিন্মঅঞ্চল এলাকাগুলোর প্রায় হাজার হাজার পরিবার পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে। ফলে তারা তাদের গৃহপালিত পশু, পাখিসহ পরিবারের বৃদ্ধ ও শিশু বাচ্চাদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে চলেছে। এরপর আবার অসহায় পরিবারগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে মিলছেনা কোন ত্রান সামগ্রী। ফলে পানিবন্ধি অবস্থায় অসহায় পরিবারগুলো প্রতিদিন চরমভাবে বিষাক্ত সাপ, বিচ্ছু, পোকামাকড়েরের আক্রমনের আতংকে দিনপার করে চলেছে।
উপজেলার পানিবন্দি পরিবারগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে কোন সহায়তা দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন সুলতানা বলেন, আমরা গত শুক্রবার উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের মৈজদ্দিন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া ৪০পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করেছি এবং আজ রবিবারও উপজেলার পানিবন্দি পরিবারগুলোতে ত্রান সামগ্রী বিতরন করা হবে বলে তিনি জানান।