রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ১২:২০ অপরাহ্ন

ঘূর্ণিঝড় রেমাল: হাতিয়ায় ভেসে গেছে বনের হরিণসহ দুই হাজারেরও বেশি গবাদিপশু

নোয়াখালী প্রতিনিধি:: ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন উপকূলীয় দ্বীপ হাতিয়ায় ভেসে গেছে দুই হাজারেরও বেশি গবাদিপশু। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৩ হাজার পরিবার। বিধ্বস্ত হয়েছে পাঁচ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি।

হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিনাজ উদ্দিন জানান, দ্বীপের প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি। শতাধিক পুকুর ও মাছের ঘেরের কয়েক কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। ভেসে গেছে অসংখ্য বনের হরিণ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢালচরের প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। চর ঘাসিয়ার ১৭ হাজার পরিবার ও চানন্দি ইউনিয়নের চার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এছাড়া হরনী, সুখচর, নলচিরা, চরকিং, চরইশ্বর, তমরুদ্দি, সোনাদিয়া, বুড়িরচর ও জাহাজমারা ইউনিয়নে বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাসরত হাজার হাজার পরিবার রয়েছে পানিবন্দি। অনেকের বাড়িঘর-দোকানপাট তীব্র জোয়ারের তোড়ে ভেসে গেছে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুভাশিষ চাকমা বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে হাতিয়ার বিভিন্ন এলাকার ৩৩ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আট হাজার হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। দুই হাজার ১৩টি গবাদিপশু পানিতে ভেসে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে।

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেছেন, হাতিয়ার অসংখ্য মানুষ গৃহহীন হয়েছে, জোয়ারে ভেসে গেছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। সোমবার (২৭ মে) তিনি দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী বরাবর এক চিঠিতে হাতিয়া উপজেলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে অবহিত করেন।

এমপি মোহাম্মদ আলী বলেন, নোয়াখালীর একমাত্র দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে সাত-আট ফুট উচ্চতার জোয়ারে নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে। বেড়িবাঁধ না থাকায় নিঝুম দ্বীপ, ঢালচর ও চর খাসিয়া সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বঙ্গোপসাগরের মুখে অবস্থিত হাতিয়ার সর্ব দক্ষিণের জনপদ নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ প্রবল জলোচ্ছ্বাসের কবলে পড়েছে। প্রায় সাড়ে তিন হাজার কাঁচা ঘর সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। রাস্তার প্রায় ৬০ ভাগই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শতাধিক পুকুরের মাছ ও অসংখ্য গবাদিপশু পানিতে ভেসে গেছে। জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়েছে।

নোয়াখালী জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় নগদ টাকা, শুকনা খাবার ও চাল মজুত রাখা আছে। জরুরি সহায়তা হিসেবে ১৬ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা, ৩১৯ টন চাল, ৬৬৩ প্যাকেট শিশু খাদ্য ও আট হাজার ২২০ কেজি গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com