রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৭ অপরাহ্ন
লালমনিরহাট প্রতিনিধি::
সরকারি ভাবে খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন লালমনিরহাটের প্রান্তিক কৃষকরা। প্রতিনিয়ত গুদাম কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হাতে দিতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। আর টাকা না দিলে সুকৌশলে খাদ্যগুদামের দায়িত্বে থাকা লোকজনের নিকট বিক্রি করতে আসা ধান নিয়ে নানা হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে কৃষকদের।
জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে লালমনিরহাট সদর উপজেলায় ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৮৩৭ মেঃটন। প্রতি জন কৃষক ২৬ টাকা দরে ১ মেঃ টন ধান বিক্রি করার সুযোগ পাবেন। কিন্তু ধান বিক্রি করতে আসা প্রান্তিক কৃষকদের প্রতিনিয়ত হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে। প্রতি টনে শ্রমিকদের ৫০০ টাকা থেকে ৭৫০ টাকা এবং খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি দিতে হচ্ছে। আর কৃষকরা টাকা দিতে না চাইলে বিভিন্ন কৌশলে তাদের ধান ফেতর দিচ্ছেন খাদ্যগুদামের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, খাদ্যগুদামের ভিতরে ধানের ভ্যানগাড়ী নিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে খাদ্যগুদামের অফিসাররা কৃষক বুঝে ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করেন। যদি কোন কৃষক টাকা দিতে রাজি না হয় তাহলে তার ধানের নানা রকম সমস্যা দেখিয়ে ফেরত দেয়া হয়। যার ফলে এক প্রকার বাধ্য হয়ে টাকা দেন কৃষকরা। এর পরে খাদ্যগুদামের শ্রমিকরা কৃষকের প্রতি টন ধান ৫০০ টাকার নিচে গুদাম ঘরে ঢুকান না। তাই কৃষকদের সেখানেও দিতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। এছাড়া ধান বিক্রির বিল নিতে গেলে অফিসে কাগজপত্র এবং অফিসারের স্বাক্ষরের জন্য কৃষকদের দিতে হয় ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। ফলে লালমনিরহাটের প্রান্তিক কৃষকরা প্রতিনিয়ত সরকারি ভাবে ধান বিক্রির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
হয়রানীর শিকার লেবুর হোসেন, হাসান আলী, আতাউর রহমান সহ একাধিক প্রান্তিক কৃষকরা জানান, এ বিষয়ে কোন প্রতিবাদ বা অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক ভাবে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেন না উদ্ধর্তন কতর্ৃপক্ষ। ফলে কেউ আর কোন অভিযোগ করতে চায় না। তবে যদি আমাদেরকে কোন অফিসার আশ্বাস দেন, আমরা সত্য কথা বললে তাৎক্ষনিক ভাবে এর বিচার করবেন তাহলে আমাদের সাথে ঘটে যাওয়া সকল অনিয়মের কথা তুলে ধরবো।
খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা শাহীনুর রহমান জানান, কৃষকদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয়ে তিনি কোন কথা বলতে পারবেন না। যা জানার দরকার তা উদ্ধর্তন কতর্ৃপক্ষের নিকট থেকে জেনে নেন।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আইয়ুব আলী জানান, এ ব্যাপারে তিনি কোন কথা বলতে পারবেন না। এ ব্যাপারে লালমনিরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিনের মোবাইলে একাধিক বার কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেন নি।