শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ১০:৫১ পূর্বাহ্ন

এক ক্ষেপণাস্ত্রেই ৮০ ওয়ারহেড: ইরানের ‘খুররমশাহর-৪’ হামলায় দিশেহারা ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে চরম উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে এবার নিজেদের সামরিক শক্তির ভয়াবহ প্রদর্শনী করল ইরান। দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও পাল্টাপাল্টি হামলার ধারাবাহিকতায় ইসরায়েলের অভ্যন্তরে শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘খুররমশাহর-৪’-এর সফল প্রয়োগের দাবি করেছে তেহরান। শুক্রবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) তাদের বিশেষ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ফোর’-এর ১৯তম পর্যায়ে এই বিধ্বংসী হামলা চালায়।

মূল লক্ষ্য ছিল তেল আবিব ও বিমান ঘাঁটি
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানের সাংকেতিক নাম ছিল ‘ইয়া হাসান ইবনে আলী’। হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরায়েলের বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র তেল আবিব। বিশেষ করে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর এবং ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর ২৭ নম্বর স্কোয়াড্রন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিক্ষেপ করা হয়। আইআরজিসির দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরাসরি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।

ব্যর্থ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
ইসরায়েলের গর্ব হিসেবে পরিচিত সাত স্তরের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের এই আক্রমণ রুখতে কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন এবং ভারী ক্ষেপণাস্ত্রের সম্মিলিত আক্রমণে তেল আবিবের সুরক্ষা বলয় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে শহরজুড়ে নজিরবিহীন অগ্নিকাণ্ড ও ব্যাপক কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা যায়নি।

কেন এত ভয়ংকর ‘খুররমশাহর-৪’?
২০২৩ সালে ইরান এই ‘খাইবার’ বা খুররমশাহর-৪ ক্ষেপণাস্ত্রটি জনসমক্ষে আনে। এর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম মরণঘাতী অস্ত্রে পরিণত হয়েছে:

বিস্ময়কর গতি: এটি উৎক্ষেপণের পর শব্দের চেয়ে প্রায় ১৬ গুণ বেশি (ম্যাক ১৬) গতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধাবিত হয়।

পাল্লা ও ওজন: সাড়ে ১৩ মিটার লম্বা এই ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার। এটি দেড় থেকে দুই টন ওজনের বিস্ফোরক বহন করতে পারে।

৮০টি ওয়ারহেড: এর সবচেয়ে মারাত্মক দিক হলো এর মাল্টিপল ওয়ারহেড ক্ষমতা। লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি পৌঁছালে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ৮০টি ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হয়ে হাইপারসনিক গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে রাডারের পক্ষে এটি শনাক্ত করা বা মাঝপথে ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব।

দ্রুত প্রস্তুতি: মাত্র ১৫ মিনিটের সংক্ষিপ্ত প্রস্তুতিতেই এটি উৎক্ষেপণ করা যায়।

মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলার দাবি
এদিকে আইআরজিসি আরও দাবি করেছে যে, তারা বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েতে অবস্থিত অন্তত ২০টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সফল আক্রমণ চালিয়েছে। তেহরানের ভাষ্যমতে, ১৮তম পর্যায়ের সেই অভিযানে মার্কিন সেনারা ঘাঁটি ছেড়ে বেসামরিক হোটেলগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, প্রতিটি মার্কিন সেনার গতিবিধি তাদের গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com