শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
দৌলতপুরে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষের প্রদর্শনী মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত ১৮ এপ্রিল শুরু হচ্ছে হজ ফ্লাইট: সর্বোচ্চ সেবার প্রতিশ্রুতি ধর্মমন্ত্রীর সংবিধান ‘সংশোধন’ না ‘সংস্কার’: সংসদ উত্তাল, কমিটিতে যাওয়া নিয়ে বিরোধী দলের অনড় অবস্থান আমিরাতে ২৭ মে ঈদুল আজহার সম্ভাবনা: টানা ৬ দিনের ছুটির আমেজ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদের বিরুদ্ধে মামলার পাহাড়: বাদ যায়নি মৃত ঘোষিত জীবন্ত শিশুও! ডিপো থেকে অবৈধভাবে আনা জ্বালানি তেল জব্দ জনগণই প্রকৃত মালিক: ‘প্রজাতন্ত্রের সেবক’ হওয়া সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা পটিয়ায় দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরে নাচঘর উদ্বোধন ও মহাপ্রসাদ বিতরণ

উদ্বোধনের ৮ বছরের মাথায় ভেঙ্গে পড়েছে দহগ্রাম হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি॥

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া উপহার দহগ্রাম ১০ শয্যার হাসপাতালটিতে তালা ঝুলে আছে। স্বাস্থ্য সেবা বঞ্চিত সাবেক ছিটমহল দহগ্রাম আঙ্গোরপোতা বাসী। দেশের বহুল আলোচিত সাবেক ছিটমহল দহগ্রাম-আঙ্গোরপোতাবাসীর জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপহার হিসেবে হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন।

জানা গেছে, ইন্দ্র্রা মুজিব চুক্তির মাধ্যমে বেরুবাড়ির বিনিময়ে দহগ্রাম আঙ্গোরপোতা তিনবিঘার মালিকানা পায় বাংলাদেশ। ভারতের অভ্যন্তরে এক টুকরো এ বাংলাদেশে প্রবেশ করতে কিরডোর ব্যবহার করতে হয়। ১৯৮৫ সালে দহগ্রাম একটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন পরিষদ হিসেবে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সাথে যুক্ত হয়। ১৯৯২ সালে করিডোর গেট হয়ে এক ঘন্টার জন্য দীর্ঘ বন্দি জিবন থেকে মুক্তি পান এ দহগ্রাম ইউনিয়নের মানুষ। পরবর্তিতে ২০০১ সাল থেকে সারা দিনের জন্য করিডোর গেট খুলে রাখা হলেও সন্ধ্যার পরেই বন্ধ থাকত সেই করিডোরের গেটটি। ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দহগ্রাম সফরে গিয়ে আজিবনের জন্য করিডোর গেট খুলে রাখার উদ্বোধন করেন। সেই দিনই উপহার স্বরুপ দীর্ঘ বঞ্চিত দহগ্রামবাসীর স্বাস্থ্য সেবার জন্য ১০ শয্যা বিশিষ্ট দহগ্রাম হাসপাতাল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই থেকে সরকারী কাগজ কলমে সেবা দেয়া হলেও বাস্তবে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের এ হাসপাতালে ঝুলে আছে তালা।

উদ্বোধনের মাত্র ৮ বছরের মাথায় ভেঙ্গে পড়েছে হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবা। সরকারী ভাবে হাসপাতালে জনবল নিয়োগ থাকলেও বাস্তবে সেখানে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী চোখে পড়ে না, হাসপাতালের মুল ফটকে ঝুলে থাকছে তালা। রক্ষানা বেক্ষনের অভাবে নষ্ট হচ্ছে হাসপাতালের যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ও ভবনগুলো। চামচিকা বাদুরসহ বিভিন্ন হিংস্রো প্রানির বসবাসস্থলে পরিনত হয়েছে এ হাসপাতাল। চিকিৎসক ও নার্সদের বসবাসের জন্য করা ৮টি কোয়াটার, রোগী পরিবহনের একটি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার না করায় রুগ্ন হয়ে পড়েছে। পুরো হাসপাতাল জুড়ে একমাত্র ওয়ার্ডবয় মিজানুর রহমান পরিবার পরিজন নিয়ে চিকিৎসকের একটি কোয়াটারে থাকেন। রোগীদের থাকার বেডগুলো নিজের কোয়াটারে নিয়ে খাট হিসেবে ব্যবহার করছেন এ ওয়ার্ডবয়।

স্থানীয়রা জানান, অন্তঃবিভাগ ও বিহিঃবিভাগে চিকিৎসা সেবা দেয়ার কথা থাকলেও কোন কারন বা ঘোষনা ছাড়াই কয়েক বছর ধরে অন্তঃবিভাগ বন্ধ রয়েছে। বহিঃবিভাগে চিকিৎসা দিতে মাঝে মধ্যে কিছু প্যারাসিটামল ট্যাবলেট নিয়ে দুই ঘন্টার জন্য হাসপাতাল খুলে বসেন দু এক’জন ওয়ার্ডবয় ও নার্স। কখনো চিকিৎসক আসেন। তবে নিয়মিত নন। বিশেষ করে দুপুর ১২টার পর পুরো হাসপাতালে ঝুলে তালা। দুপুরের পর থেকে পরদিন সকাল ১০ টা পর্যন্ত কারো কোন সমস্যা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতেও ছুটতে হবে পাটগ্রাম হাসপাতালে।

লালমনিরহাট সিভিল সার্জনের কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, সরকারী তথ্য মতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের দিন হতে দহগ্রাম হাসপাতালে অন্তঃ ও বহিঃবিভাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার ৪টি পদেই পুর্ন থাকলেও দুইজন চিকিৎসক দীর্ঘ ৮/৯ বছর ধরে অলিখিত ছুটিতে রয়েছেন। ডা. নাজমুল ইসলাম ও ডা. আহমেদ মোস্তফা নামে এ দুই চিকিৎসক খাতা কলমে এ হাসপাতালে নিয়োগ প্রাপ্ত হলেও বাস্তবে তাদের কোন সন্ধান নেই খোদ সিভিল সার্জনের কাছেও। বাকী দুইজন বেতন ভাতা তুললেও বাস্তবে কর্মস্থলে নেই। উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দুইটি পদের একজন কর্মরত থাকলেও বাস্তবে তিনিও অনুপস্থিত। নার্স ৪টি পদের চার জনই এ হাসপাতালের সেবা দেখিয়ে বেতন ভাতা উত্তোলন করলেও বাস্তবে তারা একজনও নেই হাসপাতালে। তবে ১০ শয্যার হিসেব অনুযায়ী সরকারী ঔষধ পত্রসহ যাবতীয় সরঞ্জাম নিয়মিত ভাবে সরবরাহ করা হয় এ হাসপাতালে।

দহগ্রামের গৃহবধু এস্মোতারা বেগম জানান, হাতের কাছে হদগ্রাম হাসপাতাল থাকলেও মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবাসহ যে কোন সমস্যা হলে পাটগ্রাম হাসপাতালে যেতে হয়। এটা শুধু নামের মাত্র হাসপাতাল। মাঝে মাঝে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চিকিৎসক এসে সকল রোগের একই ঔষধ দিয়ে চলে যান। এরপর মরতে বসলেও প্রাথমিক চিকিৎসা জোটেনা দহগ্রামবাসীর কপালে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারটি পুনরায় সচল করতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেন তিনি।

আঙ্গোরপোতা গ্রামের কলেজ ছাত্রী মারুফা আক্তার জানান, দহগ্রামবাসী দীর্ঘ দিন নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত বন্দি জিবন কাটিয়েছেন। মুলভুখন্ডের সাথে যুক্ত হওয়ার পর সমতা ফিরাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে উপহার স্বরুপ এ হাসপাতালটি দিয়েছেন দহগ্রামবাসীকে। কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও উদাসিনতায় মুখ থুবড়ে পড়েছে এ হাসপাতালটি। নাগরিক অধিকার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত এ হাসপাতালে সেবার মান বৃদ্ধি করতে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. কাশেম আলী জানান, বিনা ছুটিতে দীর্ঘ ৮/৯ বছর অনুপস্থিত থাকা দহগ্রাম হাসপাতালের দুই চিকিৎসকের বিষয়ে একাধিকবার মন্ত্রনালয়কে অবহিত করা হয়েছে। বাকী জনবল হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন এবং সরকারী ভাবে তাদের জন্য ঔষধপত্রসহ যাবতীয় সরঞ্জাম সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। তবে হাসপাতালে তালা ঝুলে থাকার বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com