শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির আগ্রাসী মেজাজ এবার স্পষ্ট হয়ে উঠছে কিউবাকে ঘিরে। ইরানে চলমান সামরিক তৎপরতা শেষ হওয়ার পরপরই কমিউনিস্ট শাসিত কিউবার শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসে ফুটবল দল ‘ইন্টার মিয়ামি’র এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিউবার বিষয়ে ‘অসাধারণ কাজ’ করার জন্য ট্রাম্প এসময় তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।
‘সময়ের ব্যাপার মাত্র’
কিউবার বর্তমান পরিস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “কিউবায় যা হচ্ছে তা চমৎকার। তবে আমরা প্রথমে ইরানের বিষয়টি (মিডনাইট হ্যামার অভিযান) শেষ করতে চাই। এরপর কিউবার পতন হবে কেবল সময়ের ব্যাপার।” ফ্লোরিডা থেকে মাত্র ১৫০ কিলোমিটার দূরত্বের এই দ্বীপদেশটিতে শাসনব্যবস্থা বদলাতে গত কয়েক মাস ধরেই ট্রাম্প ও তার মিত্ররা নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছেন।
অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের রেশ কাটতে না কাটতেই ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, তিনি হাভানার তেল আমদানির সব পথ বন্ধ করে দেবেন। কয়েক দশকের মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত কিউবা মূলত ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর মনে ভীতি সঞ্চার করছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, অদূর ভবিষ্যতে ‘কিউবা পতনের জন্য প্রস্তুত’ হয়ে আছে।
আন্তর্জাতিক আইন ও অভিযান
ভেনেজুয়েলায় মাদুরোকে সরাতে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো অভিযানে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে কিউবান নাগরিকও ছিল। এই অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইনে ‘অবৈধ’ আখ্যা দেওয়া হলেও ট্রাম্প তাতে ভ্রুক্ষেপ করছেন না। নিজের প্রথম মেয়াদে সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমরা সামরিক বাহিনীকে পুনর্গঠন করেছি এবং তা ব্যবহারও করছি। ভেনেজুয়েলা এবং ইরানে আমাদের ‘মিডনাইট হ্যামার’ অভিযান যা অর্জন করেছে, তা সত্যিই অসাধারণ।”
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত মেটানোর পর ট্রাম্পের পরবর্তী বড় লক্ষ্য হতে যাচ্ছে ক্যারিবীয় অঞ্চলের এই দেশটি।
সূত্র: আলজাজিরা