সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন
শাহজাহান হেলাল, মধুখালী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি॥ ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা) ৩টি উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী হাওয়া ইতিমধ্যে বইতে শুরু করেছে। মধুখালী-বোয়ালমারী এবং আলফাডাঙ্গা উপজেলার তিনটি পৌরসভা এবং ২৭ টি ইউনিয়ন নিয়ে ফরিদপুর-১ আসন গঠিত।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজার ৭৮৪ জন। এ আসনটিতে বরাবরই আওয়ামী লীগ প্রার্থী নৌকা প্রতীকে জয়লাভ করে আসছেন। ফরিদপুর-১ আসন আওয়ামী লীগের একটি নির্ধারিত দূর্গ বলেও পরিচিত। স্বাধীনতার আগে ও পরে সকল নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়লাভ করেন। শুধু মাত্র ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারী বিএনপির ভোটারবিহীন নির্বাচনে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম এমপি হন (সময় কাল অতিসামান্ন)। আর ২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কাজী সিরাজুল ইসলাম এমপি নির্বাচিত হন। কাজী সিরাজুল ইসলাম নিজের স্বার্থ রক্ষায় বিএনপিতে যোগদান করায় আসনটি শুন্য হয়।
এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় বিএনপির নেতা শাহ্ মো. আবু জাফর এমপি নির্বাচিত হন সতন্ত্র প্রার্থী শরাফাত হোসেনকে কঠিন পরীক্ষায় পরাজিত করে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান নৌকা প্রতীকে ১ লাখ পাঁচ হাজার এর বেশী ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী শাহ্ মো. আবু জাফরকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান এমপি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি এমপি নির্বাচিত হওয়ার পরে মধুখালী বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা এই তিন উপজেলায় ১০ বছরে প্রায় সাড়ে সাতশ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তাবয়ন করেছেন। প্রায় তিনশ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে। তাই বিজয়ের ধারা অব্যহত রাখতে চায় আওয়মী লীগ। আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী মাঠে নৌকার ভোট চেয়ে বিভিন্ন ভাবে প্রচারনায় রয়েছেন। তবে দল যাকে মনোনয়ন দিবেন তাকে নিয়ে জয়ের ধারাবাহিকতা চায় আওয়ামী লীগ। সকল প্রার্থীই নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করে এমপি নির্বাচিত করে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচন মনোনয়নে সাধারন ভোটার আর অভিজ্ঞ মহলের অভিমত মনোনয়নের দৌড়ে বর্তমান সংসদ সদস্য মোঃ আব্দুর রহমান এগিয়ে এবং তিনিই মনোনয়ন পাবেন। ইতোমধ্যে ফরিদপুর-১ আসনে উন্নয়নের রুপকার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন তিনি। বিএনপির ২০ দলীয় জোট তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড কৌশলে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেষ্টা করছেন। তারা চাইছেন কোন কায়দায় আসনটি দখল করতে। রোজার মাসে বিএনপি সকল ইউনিয়নে ইফতার পার্টির মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারনায় দেখা যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান এমপি মো. আব্দুর রহমান, অবসর প্রাপ্ত সিনিয়র সচিব মো. মঞ্জুর হোসেন, আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপি আবার বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান কারী সাবেক এমপি এবং আমিন জুয়েলার্সের মালিক কাজী সিরাজুল ইসলাম, শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পদক মো. সিরাজুল ইসলাম, বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এম এম মোশাররফ হোসেন, সাংবাদিক আরিফুর রহমান দোলন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. লিয়াকত হোসেন সিকদার। তবে নির্বাচনী মাঠে ২/৩ জনের বেশী দেখা না গেলেও বিলবোডে আর পোষ্টারে দেখা যায়। আবার কেউ কেউ বিলবোড-পোষ্টারেও নাই।
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা শাহ্ মো. আবু জাফর, বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের জাতীয় ওলামা দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো.শরিফুল ইসলাম, সাবেক এমপি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম। জোটের অন্যতম শরীক জাতীয় পার্টি (এরশাদ) এর দলের কেন্দ্রীয় সদস্য ও শ্রমিক পার্টির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো. কামরুজ্জামান মৃধা এপি প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন পোস্টার ও ব্যানার লাগিয়ে প্রচারণা করছেন।