সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩২ অপরাহ্ন
আশা ভোঁসলে । ছবি : সংগৃহীত বিনোদন ডেস্ক:: আশা ভোঁসলের প্রয়াণে অবসান হলো একটি স্বর্ণযুগের। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি। তার মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে ওপার বাংলা এবং এপার বাংলাতেও।
জানা যায়, নিজ বাসভবনে তেরঙ্গা পতাকায় আবৃত ও পুষ্পস্তবকে সজ্জিত অবস্থায় শায়িত রয়েছে শিল্পীর নশ্বর দেহ। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানানো হচ্ছে শেষ শ্রদ্ধা। সোমবার দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রিয় গায়িকাকে শেষবার দেখার সুযোগ পাবেন অনুরাগীরা। এরপর বিকাল ৪টায় শিবাজি পার্কে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে এই গুণী শিল্পীর।
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ সাত দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে আশা ভোঁসলে হিন্দি, বাংলা-সহ একাধিক ভাষায় হাজার হাজার গান গেয়েছেন তিনি। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে আধুনিক, গজল থেকে ক্যাবারে প্রতিটি ধারাতেই নিজের স্বতন্ত্র ছাপ রেখেছেন তিনি। তাঁর গাওয়া অসংখ্য গান আজও সমান জনপ্রিয়। সময়ের সীমানা পেরিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে চলেছে। তাঁর কণ্ঠে জন্ম নিয়েছে অসংখ্য কালজয়ী গান, যা ভারতীয় সিনেমা ও সঙ্গীতের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে রয়েছে। আশা ভোঁসলের গাওয়া গান মানেই এক অনন্য বৈচিত্র্য।
একদিকে যেমন ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘দম মারো দম’, ‘ইয়ে মেরা দিল’–এর মতো ক্যাবারে ও ওয়েস্টার্ন ধারার গান। অন্যদিকে আবার ‘ইন আঁখোঁ কি মাস্তি’, ‘মেরা কুছ সামান’, ‘দিল চিজ ক্যা হ্যায়’–এর মতো গজল ও আধুনিক সুরে তিনি শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন।
দেশ-বিদেশে অসংখ্য সম্মান ও পুরস্কারে ভূষিত এই শিল্পীর নাম গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও স্থান পেয়েছিল সর্বাধিক গান রেকর্ড করার জন্য। শুধু তাই নয় সংগীত অসামান্য অবদানের জন্য ভারত সরকার তাকে ‘দাদাসাহেব ফালকে’ এবং ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করেছিল। তার সুরেলা কণ্ঠ, বৈচিত্র্যময় গায়নশৈলী এবং নিরবচ্ছিন্ন অবদান ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে।