শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন
চাঁদপুর প্রতিনিধি, অনলাইন ডেস্ক ॥
মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে মিল রেখে দীর্ঘ ৯৮ বছরের ঐতিহ্য মেনে চাঁদপুরের অর্ধশতাধিক গ্রামে শুক্রবার (২০ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে যাচ্ছে। জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফসহ ফরিদগঞ্জ, মতলব ও কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় এই ঈদ পালিত হবে।
নামাজের সময়সূচি
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুক্রবার সকাল ৯টায় সাদ্রা দরবার শরীফ মাঠে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এই জামাতে ইমামতি করবেন দরবার শরীফের পীরজাদা আল্লামা জাকারিয়া চৌধুরী আল-মাদানী। এছাড়া সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা মাঠে আরেকটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ইমামতি করবেন পীরজাদা আরিফুল্লাহ চৌধুরী।
ঐতিহ্যের ইতিহাস
সাদরা দরবার শরীফের পীরজাদা আরিফুল্লাহ চৌধুরী জানান, ১৯২৮ সাল থেকে মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.) আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালনের এই প্রথা চালু করেন। শুরুর দিকে লোকসমাগম কম থাকলেও বর্তমানে চাঁদপুর ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলায় তাঁর অনুসারীরা এই রীতি অনুসরণ করছেন।
কেন শুক্রবার ঈদ?
সাদরা দরবার শরীফের মুসল্লি মোনায়েম হোসেন জানান, তারা মূলত মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ধর্মীয় উৎসবগুলো পালন করে থাকেন। তবে এবার আফগানিস্তান ও মালিসহ কয়েকটি স্থানে চাঁদ দেখার সংবাদ প্রশ্নবিদ্ধ মনে হওয়ায় তারা তড়িঘড়ি করে রোজা ভাঙেননি। ৩০ রোজা পূর্ণ করে পূর্ণ নিশ্চয়তার সাথে শুক্রবার তারা ঈদুল ফিতর উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
যেসব গ্রামে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে
চাঁদপুরের যেসব গ্রামে শুক্রবার ঈদ পালিত হবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
হাজীগঞ্জ: সাদরা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, প্রতাপপুর ও বাসারা।
ফরিদগঞ্জ: লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সিরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, পাইকপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা ও গোবিন্দপুর।
মতলব ও কচুয়া: দশানি, মোহনপুর, পাঁচানী এবং কচুয়া উপজেলার কয়েকটি আংশিক গ্রাম।
উল্লেখ্য, প্রতি বছরই বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের একদিন আগে এসব গ্রামে ঈদ উদযাপিত হয়, যা স্থানীয়ভাবে ‘আগাম ঈদ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।