শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ন
ফরিদপুর প্রতিনিধি॥ রাজবাড়ী-ফরিদপুর রেল সংযোগের ফরিদপুর শহরের অম্বিকাপুর রেল স্টেশনে রেল থামার দাবীতে শনিবার সকালে রেল থামিয়ে স্টেশন অবরোধ করে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। এসময় বাংলাদেশ রেলওয়ে, রাজশাহীর জেলারেল ম্যানেজার (পশ্চিমাঞ্চল) বরাবর একটি স্বারক লিপি প্রদান করা হয়। ট্রেন পরিচালক দিপক কুমার সাহা ম্যানেজারের পক্ষে স্বারক লিপি গ্রহন করেন। পরে তার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পৌর ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর খন্দকার সামসুল আরেফিন সাগর বলেন, দীর্ঘদিন রাজবাড়ী ফরিদপুর রেল সংযোগটি বন্ধ ছিলো। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপির প্রচেষ্টায় পুনরায় রেল পথটি চালু হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. জাহিদ ব্যাপারী বলেন, অম্বিকাপুর রেল স্টেশনটি একটি ঐতিহ্যবাহি, জনগূরুত্বপূর্ন। এ এলাকায় খাদ্যগুদাম, পাটগুদাম, পল্লী কবি জসমি উদ্দিনের বাড়ি, রেলওয়ে স্লিপার কারখানাসহ নানা গূরুত্বপূর্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। রাজবাড়ী-ফরিদপুর রেল পথে অন্যান্য সকল স্টেশনে রেল গাড়ি থামিয়ে যাত্রি ওঠা নামা করা হয়। অবিলম্বে অম্বিকাপুর রেল স্টেশনে গাড়ি থামিয়ে যাত্রিদের রেল সুবিধা ভোগ করার সুযোগ দেওয়া হোক।
অম্বিকাপুর বাজারের রিক্সা-সাইকেল মিস্ত্রী ফিরোজ খান বলেন, অম্বিাকপুর রেল স্টেশনটি চালু থাকা কালিন অম্বিকাপুর বাজার খুব জাগজমক ছিলো। খাদ্য গুদাম সহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকায় এ এলাকায় রেল স্টেশটি ঐতিহ্যবাহী। এ বাজারে অনেক লোকের সমাগম ছিলো। পুনরায় রেল চালু হলেও অম্বিকাপুর রেল স্টেশনে রেল গাড়ি না দাঁড়ানোতে বাজারের প্রসার কমে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা অতিশিপর মনি মোল্লা বলেন, ফরিদপুর শহর থেকে অম্বিকাপুর রেল স্টেশনটি খুব কাছে। সহজেই শহরে প্রবেশ করা যায় এ স্টেশনে নেমে। যাত্রীদের সুবিদার্থে রেল পথ নির্মান করে যদি যাত্রিরা এ থেকে কোন সুবিথা না পায় তাহলে লাভ কি? রাজবাড়ী-ফরিদপুর ট্রেন পরিচালক দিপক কুমার সুর বলেন, স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবী খুবই যুক্তিযুক্ত। আমি এলাকাবাসী কাছ থেকে একটি স্বারক লিপি গ্রহন করেছি। স্বারকলিপিটি আমি রাজবাড়ী স্টেশন মাস্টারের নিকট হস্তান্তর করেছি।
রাজবাড়ী স্টেশন মাস্টার মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, আমি স্বারকলিপিটি গ্রহন করেছি। আজ রাতেই মধুমতী ট্রেনের মাধ্যমে স্বারকলিপি রাজশাহীর জেলারেল ম্যানেজারের (পশ্চিমাঞ্চল) নিকট পাঠানো হবে। কাল (বরিবার) স্বারকলিপিটি পৌছাবে। অম্বিকাপুর রেল স্টেশনটি চালুর না হবার কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের লোকবল সংকট থাকার কারনে স্টেশনটি চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে রাজবাড়ী বেলগাছি স্টেশনটিতে লোকবল ছাড়াই যাত্রী ওঠা নামা করে। এছাড়া ফরিদপুর স্টেশনটি অম্বিকাপুর স্টেশনের কাছে হওয়ায় অতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
ফরিদপুর স্টেশন মাস্টার মোঃ মাসুদ রানা রনি বলেন, ফরিদপুর রেল স্টেশনটি আশলে ডি ক্লাসের স্টেশন। ফরিদপুর স্টেশন থেকে অম্বিকাপুর স্টেশনের দূরত্বও কম মাত্র ৪ কিলোমিটার। আমাদের লোকবল সংকটও আছে। রেলওয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা চলছে। অচিরেই স্টেশনটি চালু করা হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে, রাজশাহীর জেলারেল ম্যানেজার (পশ্চিমাঞ্চল) মঞ্জুরুল ইসলামের সঙ্গে অফিস ও মুঠোফোনে ফোন করে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।