বুধবার, ২৪ Jul ২০২৪, ০২:০২ পূর্বাহ্ন

১ যুগ পর ফাইনালে স্পেন

১ যুগ পর ফাইনালে স্পেন

স্পোর্টস ডেস্ক:: ফ্রান্স সেমিফাইনালে উঠলেও তাদের পারফরম্যান্স তীব্র সমালোচনায় বিদ্ধ ছিল। কোচ দিদিয়ের দেশম তো বলেই দিলেন, তাদের খেলা বিরক্ত লাগলে যেন কেউ না দেখেন। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা স্পেনের মুখোমুখি হয়েও তারা যে মুগ্ধ করার মতো কিছু করেছে তা নয়। ওপেন প্লে থেকে এই আসরে নিজেদের প্রথম গোলে এগিয়ে গিয়ে সমর্থকদের আনন্দে ভাসান। সুযোগ ছিল ফাইনালে উঠে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দেওয়ার। কিন্তু উড়ন্ত স্পেন পিছিয়ে পড়েও পাল্টা জবাব দিয়েছে জোরালোভাবে। তাতে সেমিফাইনালে শেষ হয়ে গেলো ফ্রান্সের ইউরো মিশন। দুর্দান্ত ফর্মের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ২-১ গোলে ম্যাচটি জিতে ১২ বছর পর ফাইনালে উঠে গেলো তিনবারের যৌথ রেকর্ড চ্যাম্পিয়ন স্পেন।

ম্যাচে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন লামিনে ইয়ামাল। স্পেনের রাইট উইঙ্গার মাঠে নেমেই পেলের রেকর্ড ভেঙেছেন। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তিকে পেছনে ফেলে মেজর টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে খেলা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান ১৬ বছর বয়সী ইয়ামাল। তারপর সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ইউরোতে করেছেন গোল!

মিউনিখে শুরুতে কয়েকটি আক্রমণ করেও গোল পায়নি স্পেন। তৃতীয় মিনিটে তারা ছোট ছোট পাসে বক্সে ঢুকেছিল। আইমেরিক লাপোর্তে ডানদিকে বল ভাসান লামিনে ইয়ামালের কাছে। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এই রাইট উইঙ্গার বক্সের প্রান্তে পাঠান ফ্যাবিয়ান রুইজের কাছে। তার বাড়ানো বলে সংযোগ করার মতো কেউ ছিল না বক্সের মধ্যে।

দুই মিনিট পর দারুণ সুযোগ পায় স্পেন। ইয়ামাল ডান দিক থেকে বাঁয়ে কাট করে বক্সের মধ্যে বাঁকানো ক্রস নেন। রুইজ একটু আগেভাগে লাফান, তাতে করে গোলমুখের খুব কাছ থেকে নেওয়া তার হেড মাঠের বাইরে যায়। সপ্তম মিনিটে ফ্রান্স প্রথম আক্রমণে যায়। র‌্যান্ডাল কোলো মুয়ানি বল বাড়ান কিলিয়ান এমবাপ্পের জন্য। ফরাসি অধিনায়ক বক্সে ঢোকার আগেই তার সামনে থাকা বল বিপদমুক্ত করেন জেসাস নাভাস।

দুই মিনিট পর আকস্মিক আক্রমণে ফ্রান্স এগিয়ে যায়। উসমান দেম্বেলের কাছ থেকে বল পেয়ে এমবাপ্পে দূরের পোস্টে বল ভাসান। কোলো মুয়ানি দুর্দান্ত হেডে ফ্রান্সকে লিড এনে দেন।
গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে স্পেন। কয়েকবার ফ্রান্সের বক্সে খেলোয়াড়রা নিজেদের মধ্যে বল দেওয়া নেওয়া করলেও শট নিতে পারেননি।

অবশেষে স্পেন ঘুরে দাঁড়ায় চার মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে। ২১তম মিনিটে পায়ের দারুণ কাজ দেখিয়ে ইউরোর ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হন ১৬ বছর বয়সী ইয়ামাল। সেন্ট্রাল এরিয়ার কাছে বল পেয়ে বাঁ দিকে কাট করে ২৫ মিটার দূর থেকে শট নেন। বল দূরের পোস্টে লেগে জালে জড়ায়, ফ্রান্স কিপার মাইক মাইগনানের কিছুই করার ছিল না।

চার মিনিট পর ২-১ করে স্পেন। নাভাস রাইট উইংয়ে বল পেয়ে ক্রস দেন। উইলিয়াম সালিবা বল বিপদমুক্ত করতে হেড করেছিলেন। কিন্তু ড্যানি ওলমো বল ছিনিয়ে নেন। তারপর অরেলিয়েন শুয়োমেনিকে পেছনে ফেলে লক্ষ্যে শট নিয়েছিলেন। জুলেস কোন্দে বাঁ পা বাড়িয়েও বল রুখতে পারেননি। তার পায়ে লেগে জালে জড়ায় বল। আত্মঘাতী মনে হলেও ওলমোর শট টার্গেটে ছিল বলে গোলটি তার নামের পাশেই লেখা হয়। তাতে করে চলতি ইউরোতে তৃতীয় গোল করে যৌথভাবে শীর্ষ গোলদাতার আসনে বসলেন তিনি।

বিরতির আগে সেভাবে আর কোনও দল সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধের জন্য বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালায় ফ্রান্স। ৫৩ মিনিটে কোন্দের নিচু ক্রস বিপদমুক্ত করে কর্নার বানান লাপোর্তে। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল শুয়োমেনি হেড করেছিলেন, বল মাটিতে লাফিয়ে সহজেই স্পেন কিপার উনাই সিমনের হাতে ধরা পড়ে। তিন মিনিট পর বাঁ দিক থেকে এমবাপ্পের শট রুখে দেন স্প্যানিশ কিপার।

৬০ মিনিটে আরেকটি আক্রমণে স্পেনকে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল ফ্রান্স। মার্ক কুকুরেল্লা ভুল করে বল দেন কাঁতেকে। তার পাস ধরে দেম্বেলে বক্সের মধ্যে ক্রস দিয়েছিলেন। সেটা তার সতীর্থের কাছে পৌঁছানোর আগেই বাঁ হাত বাড়িয়ে বিপদ বাড়তে দেননি সিমন। ৭৬ মিনিটে আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান বাঁ দিক থেকে দূরের পোস্টে বল বাড়ান। রুইজ বল বিপদমুক্ত করতে গিয়ে তালগোল পাকান। বক্সের সামনে বল পেয়েই দ্রুত শট নেন থিও হার্নান্দেজ, কিন্তু বারের ওপর দিয়ে চলে যায় বল।

দীর্ঘ সময় পর স্পেন আক্রমণে যেতে পারে। ৮১ মিনিটে ডান দিকে বল পেয়ে কাট করে বক্সের সামনে থেকে লক্ষ্যে শট নেন। দূরের পোস্ট দিয়ে লক্ষ্যভেদ করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বল বারের বেশ ওপর দিয়ে গিয়ে তাকে হতাশ করে।

চার মিনিট পর বল নিয়ে বক্সে ঢুকে যান এমবাপ্পে। চ্যালেঞ্জ করা স্প্যানিশ ডিফেন্ডার ড্যানিয়েল ভিভিয়ানকে পাশ কাটিয়ে নেওয়া তার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফ্রান্স অধিনায়ক বিবর্ণ পারফর্ম করে আবারও যে সমালোচিত হতে যাচ্ছেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইনজুরি টাইমে গ্রিয়েজমান হেড করে লক্ষ্যে শট নিতে চেয়েছিলেন। কুকুরেল্লা চমৎকারভাবে তাকে রুখে দেন।

২০১২ সালে তৃতীয়বার ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এই প্রথম ফাইনালে উঠলো স্পেন। ইউরোর এক আসরে প্রথম দল হিসেবে ছয় ম্যাচ জিতলো তারা। শিরোপার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত হবে ইংল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের সেমিফাইনালের পর।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Titans It Solution