রবিবার, ১৪ Jun ২০২৬, ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মুন্সীগঞ্জ-১আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় দলীয় হাই কমান্ডদের চিন্তা ভাবনায় ও স্থানীয় নেতাকর্মী, ভোটার সমর্থকদের গ্রহন যোগ্যতায় শীর্ষ অবস্থানে চলে এসেছে সিরাজদিখান উপজেলার কৃতি সন্তান আল মুসলিম গ্রুপের চেয়ারম্যান, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, সিরাদিখান উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ। আগামী জাতীয় নির্বাচনে তিনি ধানের শীষের প্রতীক পাবেন এমন প্রত্যাশায় মুন্সীগঞ্জ-১ আসনবাসী। শ্রীনগর-সিরাজদিখান উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত এই আসনে বিগত নির্বাচন গুলোতে শ্রীনগর উপজেলার কৃতি সন্তানেরাই বিএনপি, আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টি থেকে বারবার মনোনয়ন নিয়ে রাষ্টীয় ক্ষমতায় এমপি, মন্ত্রী, উপ-প্রধানমন্ত্রী সহ সর্ব উচ্চ প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু অত্যান্ত দুঃখের বিষয় স্বাধীনতার পরবর্তী সংসদীয় নির্বাচনে এ আসনে সিরাজদিখান উপজেলা থেকে আজ পর্যন্ত কোন দলের হয়ে কারোর ভাগ্যেই মনোনয়ন জুটেনি। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বারবার মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়েছে এ উপজেলার কৃতি সন্তানদের। সিরাজদিখান উপজেলার কৃতিসন্তান আলহাজ্ব শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে এ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার তালিকায় প্রথম অবস্থানে চলে আসলেও শেষবধি জাতীয় পার্টির সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বিএনপিতে যোগদান করায় তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হন । প্রবীন রাজনীতিবিদ হিসেবে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনকে শ্রীনগর-সিরাজদিখানের তৃনমুল বিএনপির নেতাকর্মীরা সাদরে গ্রহন করলেও বিগত ১০ বছরে বিএনপির রাজণীতিতে তার নিষ্ক্রিয়তা, দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে না থাকা, আন্দোলন সংগ্রামে নিরব থাকা এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগে এ আসনে তিনি বিএনপির একটি ক্ষুদ্র অংশের নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির কান্ডারী সভাপতি মমিন আলী সহ তার সংগঠনের সংগ্রামী নেতাকর্মী এবং সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক আলহাজ্ব শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ ও তার তৃনমুল নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে সাবেক জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের নিয়ে নতুন করে বিএনপির কমিটি গঠন করে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। যেই কমিটি গুলো আজও সর্বজন স¦ীকৃত হয়ে উঠতে পারেনি। সিরাজদিখান-শ্রীনগর দুই উপজেলাতেই শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের কথিত পকেট কমিটি গঠনের পর থেকে তার বিরুদ্ধে ত্যাগী নেতাদের বিদ্রোহ ব্যাপকভাবে লক্ষ করা যাচ্ছে। এই দিক থেকে শাহ মোজ্জেম হোসেন চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়ে গেছে। দুই উপজেলার অন্তত ৮০ শতাংশ তৃনমুল নেতাকর্মী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের বিপক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়েছে। এই দিক থেকে আগামী নির্বাচনে এ আসনে তৃনমুল নেতাকর্মীদের সমর্থন ও ভোটারদের হিসাব নিকাশে বিশিষ্ট সমাজসেবক, নাম্বার ওয়ান দানবীর খ্যাত আলহাজ্ব শেখ মোঃ আব্দুল্লাহকে দেখা যাচ্ছে সবার আগে। তাকে পেছনে ফেলার মতো কোন নেতার আবির্ভাব হয়নি সিরাজদিখান সহ শ্রীনগর উপজেলার মাটিতে এমনটাই মনে করছে স্থানীয় সচেতন মহল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারন করেই বিএনপির রাজনীতিতে পথচলা আব্দুল্লাহকে বলা হয় সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির প্রানপুরুষ। তিনি বহু কষ্ঠ, ত্যাগ তিতিক্ষা, সংগ্রামের মাধ্যমে সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপিকে একটি বৃত্তে দাড় করিয়েছেন। এ কারনে আগামী নির্বাচনকে ঘিরে এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় সিরাজদিখানের এই কৃতি সন্তান শিক্ষা অনুরাগী আলহাজ্ব শেখ মোঃ আব্দুল্লাহর হাতে ধানের শীষে প্রতীক উঠবে এমন প্রত্যাশায় করেছে স্থানীয় তৃনমুল নেতাকর্মী সহ বিএনপি সমর্থক গোষ্ঠী। তাছাড়া দলীয় হাইকমান্ডদের চিন্তা ভাবনায় সিরাজদিাখানে ভোটারদের গ্রহন যোগ্যতায় তুঙ্গে থাকা শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ ধানের শীষের টিকেট পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রবল সম্ভাবনা লক্ষ করা যাচ্ছে। কারন সাবেক রাষ্ট্রপতি ডাঃ বি চৌধুরী বিএনপি থেকে এ আসনে বারবার নির্বাচিত হয়ে দেশ পরিচালনা করেছেন। তার গ্রামের বাড়ী শ্রীনগর উপজেলার মজিদপুর দয়াহাটা গ্রামে। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ বিকল্পধারার চেয়ারপার্সন। আগামী নির্বাচনে তিনি বা তার ছেলে মাহি বি চৌধুরী কুলা প্রতীকে প্রার্থী হবেন এটা নিশ্চিত। তবে বাবা ছেলে দুজনেই এ আসনের ভোটারদের হিসাব নিকাশের খাতায় একেবারেই তলানীতে। ২০০৮সালে এ আসনে আওয়ামীলীগ থেকে প্রথবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সুকুমার রঞ্জন ঘোষ। তারও পৈত্তিক ভিটা শ্রীনগর উপজেলা সদরে। তিনি ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার বিপরীতে গ্রহনযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় একরকম হেসেখেলে দ্বিতীয় বারের মতো এমপি নির্বাচিন হন। কিন্তু আগামী নির্বাচনে তিনি সহ এই উপজেলারই আরো ৪ জন আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশায় লবিং করে যাচ্ছে। তৃতীয় বারের মতো সুকুমার রঞ্জন ঘোষই নৌকা প্রতীক পাবেন আশাবাদী সকলে। তবে সিরাজদিখান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহম্মেদ আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশার লাইনে থাকলেও মনোনয়ন পাওয়া, না পাওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত। সেই হিসাবে ভোটের মাঠে সিরাজদিখান উপজেলা থাকবে পুরোপুরিই ফাঁকা। শ্রীনগরের কোন সন্তান এ আসনে বিএনপি ও আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন টিকেট পেলে সিরাজদিখান উপজেলার ভোট ভাগাভাগি হবে প্রার্থীদের গ্রহন যোগ্যতার উপর ভিত্তি করে। সেক্ষেত্রে শ্রীনগরের বিপরীতে সিরাজদিখানের প্রার্থীর গ্রহন যোগ্যতা থাকবে অনেক বেশী। এক্ষেত্রে আব্দুল্লাহর অবস্থান পুরোটাই পরিষ্কার। কারন শ্রীনগর-সিরাজদিখান বিএনপির দুই-চারজন বড় নেতা অর্থাৎ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের জাতীয় পার্টিপন্থী নেতা ছাড়া তৃনমুল নেতাকর্মীদের শতভাগ সমর্থন রয়েছে আলহাজ্ব শেখ মোঃ আব্দুল্লাহর পক্ষে। দুইটি উপজেলাতেই রয়েছে এই নেতার ব্যাপক জনপ্রিয়তা।
এদিকে সাবেক রাষ্ট্রপতি ডাঃ বি চৌধুরী বিএনপি থেকে সিটকে পড়ার পর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শ্রীনগরের মাটিতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ডজন খানেক নেতার আবির্ভাব ঘটে। কিন্তু শেষাবধি জাতীয় পার্টির তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বিএনপিতে যোগদান করার পর জাতীয় পার্টিপন্থী নেতাকর্মীরা উষ্ণ অবস্থানে চলে এলে একমাত্র আব্দুল্লাহ ছাড়া বাকীরা সবাই হারিয়ে যায়। তারপরেও শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ২০০৮ সালের নবম জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আওয়ামীলীগ প্রার্থী সুকুমার রঞ্জন ঘোষের সাথে নির্বাচন করে দ্বিতীয় অবস্থানে পরাজিত হন। কিন্তু শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন গত ১০ বছরে শ্রীনগর উপজেলা বিএনপিকে এক বৃত্তে ধরে রাখতে চরমভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দেন। শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের বাড়ী শ্রীনগর উপজেলার দোগাছি গ্রামে। তিনি একজন প্রবীন রাজনীতিবিদ হিসাবে এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় প্রথম দিকে থাকলেও ভোটার সহ তৃণমুল নেতাকর্মীদের গ্রহনযোগ্যতায় একেবারেই তলানীতে। এই নেতা মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলে আওয়ামীলীগ, বিএনপি সব দলের প্রার্থীরাই হবে শ্রীনগর উপজেলার সন্তান। কিন্তু গ্রহনযোগ্যতার ভিত্তিতে সিরাজদিখানের সন্তান আলহাজ্ব শেখ মোঃ আব্দুল্লাহকে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হলে তার বিজয় ঠেকানো সহজ হবে না কারোর পক্ষেই। সিরাজদিখান উপজেলায় আলী আজগর এন্ড আব্দুল্লাহ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ সিরাজদিখান বাসীর প্রানের নেতা হিসেবে জনপ্রিয়। তার কারনে সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপি আজ সুসংগঠিত। সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির তৃনমুল নেতাকর্মী সহ বিভিন্ন স্তরের জনগন তাকিয়ে আছেন শেখ মোঃ আব্দুল্লাহর দিকে। তারা মনে করেন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে সিরাজদিখানের দুই তৃতীয়াংশ দলীয় ভোটার নিয়ে শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ ধানের শীষের মনোনয়ন পেলে তার বিজয়ের পথটা খুবই সহজ হবে। সিরাজদিখান উপজেলার সর্বস্তরের জনগন দীর্ঘ দিনের প্রানের দাবী এই উপজেলা থেকে এমপি নির্বাচিত হবে। সেই হিসাবে বিএনপি পন্থী ভোটার থেকে শুরু করে তরুন প্রজন্মের ভোটারদের চুলচেরা বিশ্লেষনে আব্দুল্লাহর অবস্থান সবার আগে। আলহাজ্ব শেখ মোঃ আব্দুল্লাহকে ধানের শীষের টিকেট দেওয়া হলে তার মাধ্যমে এই উপজেলায় প্রথবারের মতো এমপি নির্বাচিত হওয়ার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিকভাবে অবহেলিত সিরাজদিখান বাসীর জন্য সুখ দুঃখের সারথী হবেন আব্দুল্লাহ এমন বিশ্বাস দলমত নির্বিশেষে সকল স্তরের জনগনের। তবে সিরাজদিখান বাসীর পাশাপাশি শ্রীনগর উপজেলার বিএনপি পন্থী ভোটার ও নেতাকর্মীদের একটি বৃহত অংশও মনে করেন আলহাজ্ব শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির যোগ্য প্রার্থী। আদর্শ রাজনীতিবিদ ও সমাজ সেবক হিসেবে আব্দুল্লাহর অবদান সবচাইতে বেশী। শ্রীনগর বাসীও স্বীকার করেন আলহাজ্ব শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ বড় পদের নেতা বা এমপি নির্বাচিত না হয়েও জনসেবায় অতুলনীয়। সমাজে শিক্ষার আলো ছড়াতে নিজস্ব অর্থায়নে সিরাজদিখানে কলেজ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুহাত ভরে দিয়ে যাচ্ছেন আর্থিক অনুদান । বেকার সমস্যা সমাধানে শ্রীনগর-সিরাজদিখানের অন্তত ৩ হাজার বেকার যুবকের চাকুরীর ব্যবস্থা করেছেন নিজের প্রতিষ্ঠানে। গ্রামের বাড়ীতে নিজের প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসায় ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ন বিনা খরচে চালু করেছেন শিক্ষাব্যবস্থা। তার নিকট থেকে কন্যাদায়গ্রস্থ পিতা কখনো ফিরে আসেনি খালি হাতে। অসুস্থ্য ব্যক্তির চিকিৎসা সেবা, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান সহ সিরাজদিখান-শ্রীনগরে অসংখ্য মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিম খানা এমন কোন খাত নেই, যেখানে আব্দুল্লাহর অবদান থেকে বঞ্চিত হয়েছে মুন্সীগঞ্জ-১ আসন বাসী । তাই একটা সুযোগ পেলে আলহাজ্ব শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ হতে পারে প্রথম বারের মতো সিরাজদিখান থেকে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের এমপি, এমন প্রত্যাশায় এলাকাবাসী।