বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০২:২৭ অপরাহ্ন

বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিল ফায়ার সার্ভিস সদস্য

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা সূচি রানী (৬৫) নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন এক বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। সূচি রানী কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের মৃত ভরত বিশ্বাসের স্ত্রী। তিনি কালীগঞ্জের কাঁচারী রোডে তার ছেলে পরিমলের কাছে থাকতেন।

মঙ্গলবার রাতে যশোর রোডের একটি স’মিলের কাছে ওই বৃদ্ধা নারী পড়ে ছিলেন। সে সময় ফায়ার সার্ভিসের একটি টহল টিম ওই বৃদ্ধা নারীকে দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। পরে তার কাছ থেকে পরিচয় জেনে পরিবারের সদস্যদের কাছে তাকে হস্তান্তর করেন।

কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিস সূত্রে জানা গেছে, তাদের একটি টিম টহল ডিউটি করার সময় মঙ্গলবার রাতে ওই বৃদ্ধাকে যশোর রোডের একটি স’মিলের কাছে পড়ে থাকতে দেখেন। সে টিমের সদস্যরা তাদের অফিসারের সাথে কথা বলেন। পরে স্টেশন অফিসার শামসুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল মানসিক ভারসাম্যহীন ওই বৃদ্ধা নারীকে উদ্ধার করে তার কাছ থেকে পরিচয় জানার চেষ্টা করেন। বৃদ্ধা নারী তাদের জানায়, তার বাড়ি কুষ্টিয়ার শ্যামপুরে। তখন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা কুষ্টিয়াসহ আশপাশের স্টেশনে ফোনে যোগাযোগ করে তার পরিচয় নিশ্চিত হন।

কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার শামসুর রহমান বলেন, তিন মাস আগে তার স্বামী ভরত বিশ্বাস মারা গেছেন। আর গত ১৮/২০ দিন আগে তার ছেলে সন্তান মারা যায়। এরপর থেকে তিনি অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহী অবস্থায় ছিলেন। বর্তমানে ওই বৃদ্ধা নারী সুচি কালীগঞ্জের কাঁচারী রোডে তার ছেলে পরিমলেরর কাছে বসবাস করছিলেন। পরিমল যশোর আদদ্বিন হাসপাতালে চাকুরী করেন। মঙ্গলবার সকালে থেকে তিনি নিখোঁজ হন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে মঙ্গলবার রাতেই ছেলে পরিমলের কাছে সূচি কে হস্তান্তর করেন।

সূচির ছেলে পরিমল বিশ্বাস জানান, তার মা হারিয়ে যাবার পর পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। সারাদিন খুঁজে তাকে না পেয়ে অবশেষে যখন শহরে মাইকিং করার প্রস্তুতি নিচ্ছেলেন তখন তার মাকে নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্য আমার বাসায় চলে আসে। আমি ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ।

কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার শামসুল রহমান বলেন, বৃদ্ধা নারীকে উদ্ধার করে আমরা তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি। এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। একজন মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে নিজের কাছে অনেক ভাল লাগছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Titans It Solution