বুধবার, ২৪ Jul ২০২৪, ০২:১৯ পূর্বাহ্ন

তারেক তাণ্ডবে বিভক্ত বিএনপি

তারেক জিয়া এখন বিএনপিতে রীতিমতো তাণ্ডব শুরু করেছেন। দলের ভেতর এখন চলছে একধরনের অজানা আতঙ্ক। তারেক জিয়া এখন বিএনপিতে রীতিমতো তাণ্ডব শুরু করেছেন। দলের ভেতর এখন চলছে একধরনের অজানা আতঙ্ক।

নিজস্ব প্রতিবেদক: তারেক জিয়া এখন বিএনপিতে রীতিমতো তাণ্ডব শুরু করেছেন। দলের ভেতর এখন চলছে একধরনের অজানা আতঙ্ক। কে কখন দল থেকে বাদ পড়বেন, কোন কমিটি কখন বিলুপ্ত হবে এ নিয়ে দলের ভেতর তীব্র অস্থিরতা বিরাজ করছে। আর এই অস্থিরতায় বিএনপির নেতারা বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

বিএনপির কোন নেতা মনে করছেন যে, তারেক জিয়া যেটা করেছেন এটা দরকার ছিল। বিএনপিকে গোছানো এবং আন্দোলনের গতি আনার জন্য এর কোন বিকল্প নেই। তবে অন্য নেতারা মনে করছেন, এটি সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক অন্যায় এবং এভাবে দলে স্বৈরচারী কায়দায় রদবদল করলে বা কমিটি বাতিল করলে দলের অস্তিত্ব সঙ্কটের মধ্যে পড়বে। এ নিয়ে বিএনপি এখন স্পষ্টতই দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। দলের ভেতর স্থায়ী কমিটির সিংহভাগ সদস্যই তারেক জিয়ার এই তাণ্ডবের বিরুদ্ধে।

তবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কয়েকজন নেতা এই সিদ্ধান্তের পক্ষে। তারা মনে করছেন যে, যারা দলের জন্য কাজ করছে, যারা দলের জন্য সময় দিচ্ছে তাদেরকে নেতৃত্বে আনা উচিত। তবে সকলে একমত যে যথাযথ প্রক্রিয়ায় এটি হচ্ছে না।

গতকাল বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়েছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, বেগম খালেদা জিয়াও তারেক জিয়ার এই স্বৈরচারী আচরণে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি নিরুপায় বলেও উল্লেখ করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন যে, এই বিষয়গুলো সকলের সাথে আলাপ আলোচনা করে করা উচিত ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কারো সাথে আলাপ আলোচনা না করে এটি করা নিয়ে তার মধ্যে এক ধরনের দীর্ঘশ্বাস আছে। তবে কোন প্রতিবাদ নেই।

বিএনপির বিভিন্ন নেতারা বলছেন যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে দল করছেন, দলের ভেতরে রকম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি কখনও দেখেননি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস এবং নজরুল ইসলাম খান এ ধরনের সিদ্ধান্তের ঘোরতর বিরোধী। তারা মনে করছেন যে, এটির ফলে দলে একটি নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে, দলে আতঙ্ক বিরাজ করবে এবং কেউই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে উৎসাহী হবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলছেন, টকশো দেখে দেখে যদি কমিটি করা হয় তাহলে সংগঠন টিকবে না। মজার ব্যাপার হল, এবার যারা কমিটিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, তাদের মধ্যে দু ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একটি হল যারা নিয়মিত বিভিন্ন টকশোতে উপস্থিত থাকেন তারা। অন্যটি হল যারা এক এগারোর সময় সংস্কারপন্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল।

জহিরউদ্দিন স্বপন বাম রাজনীতি থেকে আসা। তিনি এক এগারো সময় সংস্কারপন্থিই শুধু ছিলেন না, বেগম খালেদা জিয়াকে মাইনাস করার জন্য যে গ্রুপটি সক্রিয় ছিল সেই গ্রুপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি এক এগারোর পর বিএনপি থেকে সাময়িক বহিষ্কৃত হয়েছিলেন কিন্তু এখন তিনি তারেক জিয়ার ঘনিষ্ঠ হিসেবে জায়গা পেয়েছেন এবং এবার তিনি পদোন্নতি পেয়েছেন।

একই অবস্থা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের। তিনি একজন সংস্কারপন্থি নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে বিতাড়িত করার জন্য বিএনপির মধ্যে যে সংঘবদ্ধ চক্র সে চক্রের অন্যতম অংশীদার ছিলেন। এমরান সালেহ প্রিন্স আব্দুল মান্নান ভূঁইয়ার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে বিএনপিতে পরিচিত। তাকেও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এক এগারোর সময় যারা সংস্কারপন্থি ছিলেন, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছিল তারাই এখন ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছেন। এই বিষয়গুলো নিয়ে বিএনপিতে এখন তোলপাড় চলছে। কার্যত বিএনপি বিভক্ত হয়ে পড়েছে। আর এর ফলাফল কি হয় সেটা বুঝা যাবে অদূর ভবিষ্যতে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Titans It Solution