সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন
স্পোর্টস ডেস্ক, ঢাকা ॥
বিশ্বমঞ্চে আরও একবার নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ও জাদুকরি রূপ দেখালেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মহাতারকা লিওনেল মেসি। চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের বাঁচা-মরার ম্যাচে তাঁর দুর্দান্ত জোড়া গোলের ওপর ভর করে অস্ট্রিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই মহাজয়ের ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই টুর্নামেন্টের শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত করল আলবিসেলেস্তেরা।
তবে ম্যাচের সব আলো কেড়ে নিয়েছেন ৩৯ বছর ছুঁইছুঁই অধিনায়ক মেসি। টেক্সাসের মাঠে এই এক ম্যাচেই তিনি গড়েছেন একাধিক অনন্য বিশ্বরেকর্ড, যা ইতিমধ্যে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
ক্লোসাকে ছাড়িয়ে চূড়ায় মেসি
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করে জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন মেসি। টেক্সাসের এই ম্যাচে প্রথমার্ধে নিজের চিরচেনা ট্রেডমার্ক বাঁ-পায়ের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ১৭তম গোলটি করে ক্লোসাকে ছাড়িয়ে যান তিনি। এরপর ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আরও একটি গোল করে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা নিয়ে যান ১৮-তে। ফলে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন এককভাবে সর্বোচ্চ গোলের মালিক লিওনেল মেসি।
গিনেস বুকে আরও তিন কীর্তি
এই ঐতিহাসিক রেকর্ডের পাশাপাশি গিনেস বুক অনুযায়ী আরও তিনটি বড় রেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন এই মহাতারকা। বিশ্বকাপে এখন সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার (২৮টি), সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জেতার (১৮টি) এবং টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় (২,৪৮৯ মিনিট) মাঠে খেলার একক কীর্তি এখন শুধুই মেসির দখলে।
পেনাল্টি মিসের হতাশা ও রাজকীয় প্রত্যাবর্তন
রেকর্ডমণ্ডিত এই ম্যাচের শুরুটা কিন্তু মেসির জন্য মোটেও সহজ ছিল না। খেলার ঠিক ৯ম মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজ বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হলে ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির সহায়তায় পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্টেডিয়ামজুড়ে তখন হাজারো ভক্তের টানটান উত্তেজনা। কিন্তু মেসির নেওয়া দুর্বল স্পট-কিকটি পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। এর আগেও ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে পেনাল্টি মিসের তেতো স্বাদ পেয়েছিলেন তিনি।
তবে সেই হতাশা কাটিয়ে প্রথমার্ধের ৩৮ মিনিটে থিয়াগো আলমাদার দারুণ এক ডামির সহায়তায় নিখুঁত শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন অধিনায়ক। দ্বিতীয়ার্ধে অস্ট্রিয়া সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা করলেও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ও রক্ষণভাগের দেয়াল ভাঙতে পারেনি। ম্যাচের একদম শেষ দিকে ইনজুরি টাইমে হুলিয়ান আলভারেজের দারুণ এক আক্রমণ থেকে বল পেয়ে ক্লোজ-রেঞ্জ শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে দলের জয় ও বিশ্বরেকর্ড নিশ্চিত করেন মেসি।
“বয়স কেবলই একটি সংখ্যা”
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমে মেসি তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন,
“এই জয়টি অত্যন্ত কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যা দলকে আগামী দিনগুলোর জন্য মানসিক স্বস্তি দেবে। টানা দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট পেয়ে নকআউট নিশ্চিত করতে পেরে আমি ভীষণ খুশি।”
ম্যাচজুড়ে মেসির এমন জাদুকরি পারফরম্যান্সের পর গ্যালারিতে তখন শুধু তাঁর নামেই স্লোগান উঠছিল। সতীর্থ স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজ অধিনায়কের বন্দনা করে বলেন, “লিওকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই, তিনি গত ২০ বছর ধরে বিশ্বের সেরা এবং ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়।” টেক্সাসের মাঠের তীব্র উত্তাপের মাঝে মেসি যেন আবারও প্রমাণ করলেন, বয়স কেবলই একটা সংখ্যা মাত্র।
সূত্র: এএফপি, এনডিটিভি